ডেস্ক রিপোর্ট: সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটি বলছে, সংসদে বিল আকারে জুলাই সনদ গ্রহণ করে পরে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নিতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রস্তাব দেন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেন নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত করার জন্য তারা ধন্যবাদ জানান।
গণসংহতি আন্দোলন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনার শুরুতেই সংবিধানের ১০৬ ধারার অধীনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই পদ্ধতিকে তারা এখনও নীতিগতভাবে সঠিক বলে মনে করে। তবে এই পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদ প্রণয়নের ভিত্তিই ছিল জাতীয় ঐকমত্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আলোচনায় দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের সুপারিশ এসেছিল, যা দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ঐকমত্য ছাড়াই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সিদ্ধান্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে। একইসাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নয়, বরং সনদের অংশ - এমন বিষয়কেও এই আদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে আগে নির্ধারিত ঐকমত্য ও ভিন্নমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
গণসংহতির নেতারা বলেন, আদেশ প্রণয়নের পরেও তারা আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যতে সংকট তৈরি না হয়। কিন্তু আলোচনা ছাড়াই প্রক্রিয়াটিকে সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্তির হাতিয়ার করা হয়েছে, যাতে ঐক্য ও সমঝোতার দলিলকে বিভক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পথ তৈরি হয়।
নোট অফ ডিসেন্ট ও জনগণের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রেকর্ড করা ও জুলাই সনদে উল্লেখ থাকাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কারণ আলোচনার সময় কোন দল জনগণের কত অংশকে প্রতিনিধিত্ব করছে তা জানা ছিল না। সেটা নির্ধারিত হতে পারে নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। অর্থাৎ ঐকমত্য হয়নি এমন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কোন দলের মত গ্রহণ করা হবে, তা ঠিক হবে জনগণের মতের ভিত্তিতে। ঐকমত্য হওয়া অংশ ও ভিন্নমতের অংশসহ সম্পূর্ণ জুলাই সনদ গণভোটে যাবে, এটাই ছিল অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সাধারণ ঐকমত্য।
তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে নোট অফ ডিসেন্টের মীমাংসা করতে গেলে সংকট তৈরি হবে। নোট অফ ডিসেন্টের মীমাংসা হবে জাতীয় নির্বাচনে, জনগণ যাদের ইশতেহারে উল্লিখিত ভিন্নমতকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করবে, তাদের ভিন্নমত গৃহীত হবে। কিন্তু বারবার বলার পরেও ভিন্নমত থাকা বিষয়কে গণভোটের অংশ করে দেওয়া হয়েছে এবং ঐকমত্য ছাড়াই সংবিধান সংস্কার পরিষদকে আদেশের অংশ করা হয়েছে।
বর্তমান সংকট নিরসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রস্তাব হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করে তা গ্রহণ করার পর গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নিতে হবে। মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের জন্য আদালতের যে রায় আছে, তার আলোকে একে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে পরবর্তীতে গণভোট আয়োজন করে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য জনগণের অনুমোদন নেওয়া।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের টাইমলাইন বা সময়রেখার বিষয়ে কমিটির পরিকল্পনা কী, তাও জানতে চেয়েছে দলটি।
স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স ...
ডেস্ক রিপোর্ট: জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ ২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিত ...
ডেস্ক রিপোর্ট: ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজ আমাদের দ্বিতীয় দফার লংমার্চ। ইতোমধ্যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাথা গরম করবেন না, জনগণের গণদাবি মেনে নিন। ...
সব মন্তব্য
No Comments