অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর শহরের অলিগলি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা শ্মশানঘাট—মানুষের ভিড় যেখানে, সেখানেই খালি পায়ে ঘুরে বেড়ানো এক নারীর মুখ বহুদিন ধরেই পরিচিত। জীর্ণ শাড়ি গায়ে, আপনমনে কখনো লোকগান, কখনো পুরোনো বাংলা গান গেয়ে সময় কাটান তিনি। শহরের মানুষ তাকে চেনেন ‘লায়লা বাউল’ নামে। তবে দীর্ঘদিনের সেই পরিচিত ভবঘুরে নারী এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
শনিবার (২৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর শহরের ময়েজ মঞ্জিলে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ। অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎই মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পান লায়লা বাউল। খালি গলায় তিনি পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত ‘নয়নভরা জল গো তোমার’। আর তাতেই যেন মুহূর্তে বদলে যায় পরিবেশ। উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে শোনেন তার কণ্ঠের গভীর আবেগময়তা।
মঞ্চে তখন কোনো জৌলুস ছিল না, ছিল না আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা। জীর্ণ শাড়ি পরা, খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী শুধুই নিজের মনের আনন্দে গেয়ে যাচ্ছিলেন গান। কিন্তু সেই সহজ, নির্মোহ পরিবেশনাই ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়। অনুষ্ঠান শেষে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের অনেকে তার কণ্ঠের প্রশংসা করেছেন, কেউ কেউ আবার ভারতের ভাইরাল শিল্পী রানু মণ্ডলের সঙ্গেও তুলনা টেনেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই দশক ধরে ফরিদপুর শহরের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন লায়লা বাউল। তার এক মেয়ে ও এক পালক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা সংসারী হলেও লায়লা আর ঘরে ফেরেননি। মানুষের ভিড়, পথের ধুলো আর গান—এই যেন তার জীবন। লোকমুখে শোনা যায়, কোনো ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই একসময় হেঁটে চলে গিয়েছিলেন আজমির শরিফ পর্যন্ত। লোকসংগীতের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিল্পীদের গানও সাবলীলভাবে গাইতে পারেন তিনি।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে শহরে দেখে আসছি। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, গান করেন, কিন্তু কারও কোনো ক্ষতি করেন না। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার গান এভাবে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, তা ভাবিনি।”
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোফিজ ইমাম মিলনের স্মৃতিতেও বহুদিনের পরিচিত লায়লা। তিনি বলেন, “অনেক বছর আগে থেকেই তার গান শুনে মুগ্ধ আমি। শিল্পকলা একাডেমিতে গানের চর্চার সময় তাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম। একবার জানতে চেয়েছিলাম, কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান? তখন তিনি বলেছিলেন—‘আমি মানুষ দেখি। দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ, কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার ভাল্লাগে।’”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বলেন, “নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, মানবতা ও সাম্যের কবিও। লায়লার খালি গলায় গাওয়া গান শুনে আমিও মুগ্ধ হয়েছি।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, নাট্যকার ড. অনুপম হায়াৎ, প্রবীণ সাংবাদিক বদিউজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ফরিদপুরের পথচলা এক ভবঘুরে নারীর কণ্ঠে নজরুলের গান যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—শিল্পের আসল সৌন্দর্য থাকে না বাহ্যিক আড়ম্বরে, তা লুকিয়ে থাকে মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার নিজ বাসভবনে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।হ ...
স্টাফ রিপোর্টার: চেহারার ভিন্নতা ও বৈশ্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে শৈশবে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মডেল, মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২০ এবং মানবাধিকারকর্মী মেঘনা আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেও ...
স্টাফ রিপোর্টার: নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নতুন সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’র মাধ্যমে এই মাসেই প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়েছেন এ প্রজন্মের চিত্রনায়িকা মৌ খান। বড় পর্দায় মূল গল্ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবন, যুদ্ধের অভিঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের স্মৃতি উঠে এলো গীতি আলেখ্য ‘যশোর রোড’-এ। মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্ব ...
সব মন্তব্য
No Comments