থাইল্যান্ড ভেঙ্গে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্রের দাবিতে অনড় বিআরএন

প্রকাশ : 23 Sep 2026
থাইল্যান্ড ভেঙ্গে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্রের দাবিতে অনড়  বিআরএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। সংগঠনটির দাবি, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।


সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এএফপিকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি এ অবস্থান জানান। কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "This struggle will continue until the end of time," এবং "As long as our objectives remain unachieved, we will continue to fight." 


বিআরএন ১৯৬০-এর দশক থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করছে, যদিও বর্তমান অস্থিরতা তীব্র আকার নেয় ২০০৪ সালে। গত দুই দশকে এ সংঘাতে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য উল্লেখ করেছে এএফপি। Since 2004, more than 7,000 people – militants, Thai security forces and civilians – have been killed, according to monitor Deep South Watch. 


ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের এ অঞ্চল মালয়-মুসলিম অধ্যুষিত পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। পরে ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম, বর্তমান থাইল্যান্ডের সঙ্গে অঞ্চলটির অন্তর্ভুক্তি ঘটে। The southern region was once part of the former Malay-Muslim Patani sultanate, but was annexed by Buddhist-majority Thailand, then Siam, in the early 1900s. 


নিকমাতুল্লাহ সেরি জানান, বিআরএন শুধু শান্তি আলোচনা নয়, দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সংগঠনটি থাই সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বিআরএন নিজেই অঞ্চলটি পরিচালনা করতে চায়। তিনি বলেন, "We want political power. That is, the BRN should be able to govern"। প্রস্তাব অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত অঞ্চলটি শরিয়া পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যদিও তা শুধু মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য হবে। একটি "পাঁচ বা দশ বছরের ক্রান্তিকালীন সময়ে আমরা শাসন করব, তারপর জনগণের কাছে গণতান্ত্রিকভাবে হস্তান্তর করব" বলে তিনি উল্লেখ করেন। 


থাইল্যান্ড ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিআরএনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে, সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয় গত ডিসেম্বরে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি বারবার স্থবির হয়েছে এবং গত জুলাইয়ে পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হওয়ার হামলার পর ব্যাংকক সংলাপ স্থগিত করে। But the process has repeatedly stalled and Bangkok suspended dialogue in July following an attack that killed five soldiers. 


নিকমাতুল্লাহ সাম্প্রতিক সহিংসতার দায় স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি, তবে বলেছেন বিআরএন এই সংগ্রামের "driving force"। গত আগস্টে রাতভর সমন্বিত হামলায় বেশ কয়েকজন আহত এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়, এবং জুলাইয়ে একটি চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় পাঁচ সৈন্য নিহত হয়। তিনি বলেন, জাতিগত মালয় মুসলিমরা ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে "সুস্পষ্ট বৈষম্যের" শিকার এবং "কখনোই নিরাপদ বোধ করেনি"— যা থাইল্যান্ড প্রত্যাখ্যান করেছে।


থাইল্যান্ডের প্রধান আলোচক থানুত সুভারনানন্দ আগস্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আলোচনার টেবিলে "বিচ্ছিন্নতার কোনো আলোচনা নেই"। তার পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি অঞ্চল এবং দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী চেকপোস্ট কমানোর বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে অঞ্চলটি বিশেষ নিরাপত্তা আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা সন্দেহভাজনদের বিনা অভিযোগে আটক এবং কারফিউ জারির ক্ষমতা দেয়।


আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে নিকমাতুল্লাহ বলেন, বিআরএনের সামরিক শাখায় গত দুই দশকে ১,০০০ যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে, তবে "যুদ্ধ শেষ উপায়"। তার দাবি, "আমরা দুর্বল গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করি না— আমাদের লক্ষ্য সরকার"। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নরদিন এএফপিকে বলেন, নতুন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ "বিবেচনাধীন" এবং কুয়ালালামপুরের অগ্রাধিকার শান্তিপূর্ণ সমাধান। তবে তিনি এও বলেন, মালয়েশিয়া নিজেকে সহিংসতায় লিপ্ত কোনো পক্ষের আশ্রয়স্থল হতে দেবে না।


সম্পর্কিত খবর

;