হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্ত ও সৌদি পাইপলাইন সচল, দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে তেলের দাম

প্রকাশ : 22 Sep 2026
হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্ত ও সৌদি পাইপলাইন সচল, দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে তেলের দাম

স্টাফ রিপোর্টার: উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং শর্ত মানলে এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নেমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই দুই খবরের প্রভাবে তেলের বাজারে বড় দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা, রয়টার্স ও চ্যানেল নিউজ এশিয়া।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর ফিউচার ২.১১ ডলার বা ২.১ শতাংশ কমে ৯৮.২৩ ডলারে নেমেছে, যা ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুড ২.৪৩ ডলার কমে ৮৯.৯৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্য বাজারে ব্রেন্ট ৯৮.৩৩ ডলার পর্যন্ত নামার খবরও এসেছে। টানা পাঁচ সেশনে দাম কমছে।


দাম কমার পেছনে প্রথম কারণ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি আরামকো, ফলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ৯ দিন বন্ধ থাকার পর পাইপলাইনটি আবার কম চাপে চালু হয়েছে এবং আজই ইয়ানবু থেকে রপ্তানি আবার শুরু হতে পারে। এই পাইপলাইন দিয়ে দিনে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ। পাইপলাইন সচল হওয়ার খবরে সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক কমে গেছে।


দ্বিতীয় বড় কারণ ইরানের ঘোষণা। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনীতি শুরুর "সোনালি সুযোগ" বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে রোববার ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় আবার সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার জবাব হবে সীমাহীন।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের পর থেকে এই প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে ওমানের মাধ্যমে তেল পাঠানোর ব্যবস্থাও করছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি পাইপলাইন চালু এবং ইরানের শর্তসাপেক্ষে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে বাজারে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত মানবে কিনা তার ওপরই পরবর্তী দামের গতিপথ নির্ভর করবে।


সম্পর্কিত খবর

;