দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারে সংকট তৈরি করা যাবে না: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ : 22 Sep 2026
দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারে সংকট তৈরি করা যাবে না: তথ্য উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে বা বাসে আগুন দিয়ে সরকারের মধ্যে সংকট তৈরি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে কষ্ট দিয়ে সংকটে ফেলতে চায় না এই সরকার। ডিজেলে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো, সেই লোকসান কমানোর চেষ্টা চলছে।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।


জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ বলছি না, কিন্তু ঢাকা শহরে কিছু কিছু জায়গায় দু-একটা ককটেল ফুটেছে, বাসে আগুন হয়েছে, এগুলো করে আসলে সরকারের মধ্যে সংকট তৈরি করা যাবে বলে আমি মনে করি না। আমরা কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছি না। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকবে, এটা মেনে নিয়েই রাজনীতি করা উচিত।


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও পার্শ্ববর্তী দেশে তেল পাচারের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্য খাত ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো অত্যন্ত জটিল বিষয়। কোনো একটি খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ শুধু সেখানেই নিবেদিত করতে পারে না। কম সামর্থ্যের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং। তাই সরকারকে সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং রিজার্ভ সাশ্রয়ের বিষয়টিও দেখতে হচ্ছে।


বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে কেন বাড়ল—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা খুবই ভোলাটাইল অবস্থায় আছে। সামনে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সরকারের আর কত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব? পার্শ্ববর্তী দেশে দাম বেশি থাকলে সীমান্ত দিয়ে পাচারের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়, সেই ঝুঁকি রোধ করাও উদ্দেশ্য। তবে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি সরকার অনুধাবন করছে।


মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ওএমএস এবং টিসিবির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। ৪১ লাখ পরিবারকে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের সংখ্যা আগামী অর্থবছরে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


আইএমএফের ঋণের শর্তে এই সিদ্ধান্ত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন, আইএমএফের কোনো শর্তের কারণে এটি করা হচ্ছে না। সরকার জনগণের সামাজিক কল্যাণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।


হাসিনার সময় হলে কী করতেন—এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, হাসিনার সময় এই অবস্থা হলে তার পদত্যাগ চাইতাম। কারণ সেটা নির্বাচিত সরকার ছিল না। তবে বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত। জনগণের কষ্ট হবে, তবে সরকার ব্যালান্স করতেও চায়। সবচেয়ে ভালনারেবল মানুষের পাশে আমরা আছি।


প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা, কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) ভাষণ দেবেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। সানফ্রান্সিসকোতে দলীয় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্যয় সাশ্রয় ও দেশের ক্রাইসিস বিবেচনায় সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ইউএনজিএ-র কোনো অনুষ্ঠান সেখানে ছিল না।


বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে এটি প্রকাশিত তথ্য। সুতরাং এ চুক্তি হতেও পারে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে তথ্য এতটুকুই আছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের সময় পুলিশকে দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের কালচার তৈরি করা হয়েছিল। আমরা সেই অবস্থান থেকে বের হয়ে পুলিশকে জনগণের প্রকৃত সেবামুখী বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। মাঠপর্যায়ে পুলিশের মনোবলের ঘাটতি থাকলেও সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়ালে দ্রুত স্বাভাবিক পুলিশিং ফিরে আসবে।

সম্পর্কিত খবর

;