রামিসা হত্যা: সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ : 24 May 2026
রামিসা হত্যা: সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। রোববার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে 


মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খুঁজতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় 


এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের দিনই সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। ১৯ মে সকালে রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা ও দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে রাখে 


ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। শনিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে 


রোববার বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে দুই আসামিকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান জানান, মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন আসামিদের কোনো আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার এই মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে 


এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৫ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচারকাজ সম্পন্ন হবে এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল ও বিচারকাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন 


সম্পর্কিত খবর

;