দৌলতপুরে চরে বন্যায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশ : 24 Sep 2026
দৌলতপুরে চরে বন্যায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও কমেনি চরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ভোগান্তি। বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের।


দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবারের বন্যার পানিতে চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। মাঠের ফসল পচে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংকট সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গো-খাদ্যের। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকসহ চরবাসী।


চরের প্রধান অর্থকরী ফসল মরিচ ও কলাক্ষেত ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন ধান, মাসকলাই, পাটের বীজ এবং কুমড়া বাগানের। বন্যার পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় এসব ফসল পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে লাভের মুখ দেখার আগেই চরের কৃষকসহ প্রান্তিক মানুষগুলো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব প্রায়।


রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত সোনাতলা গ্রামের সাইদুর ব্যাপারী জানান, সমিতি থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ করে এবার ৩ বিঘা মরিচ আর ১০ বিঘা কলার বাগান করেছিলাম। কিন্তু পদ্মার পানিতে কয়েক দিনেই সব পচে নষ্ট হয়ে গেল। এখন ঋণ কিভাবে শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কি খেয়ে বাঁচব, কিছুই বুঝতে পারছি না।


একই এলাকার কৃষক বাবু জানান, ৪ বিঘা জমির মরিচ ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মরিচ সংগ্রহ শুরু হতো না হতেই বন্যার পানি এসে কয়েক দিনেই মরিচের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।


এদিকে চরের মাঠের ঘাস ও খড়ের গাদা পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গো-খাদ্যের সংকট। নিজেদের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে আমার খামারের ১৫টি মহিষ নিয়ে চরম বিপাকে আছি বলে জানান একই এলাকার গো-খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন।


দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রিনা পারভীন জানান, এবারের বন্যায় চরাঞ্চলের প্রায় ১০৬০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মরিচ ২৯১ হেক্টর, কলা ক্ষেত ২২৮ হেক্টর, সবজি ৩৩ হেক্টর, আমন ধান ৬২ হেক্টর, মাসকলাই ২৩ হেক্টর, বীজপাট ২১২ হেক্টর, গো-খাদ্য ২০৩ হেক্টর, ফলের বাগান ৬ হেক্টর এবং প্রায় ২ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা।


বন্যা কবলিত পদ্মার চরের ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি না কমলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এখনো অনেক ফসলের জমিতে পানি জমে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


সম্পর্কিত খবর

;