জাতিসংঘে জেলেনস্কির ভাষণে পুতিনকে ‘পেশেন্ট জিরো’ আখ্যা, বললেন এই যুদ্ধের অবসান হতেই হবে

প্রকাশ : 24 Sep 2026
জাতিসংঘে জেলেনস্কির ভাষণে পুতিনকে ‘পেশেন্ট জিরো’ আখ্যা, বললেন এই যুদ্ধের অবসান হতেই হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবশ্যই অবসান ঘটাতে হবে এবং এই যুদ্ধের একমাত্র মূল চালিকাশক্তি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 


তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে রুশ জেনারেলরা পুতিনের উন্মাদনাপূর্ণ নির্দেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল দখলের জন্য। জেলেনস্কির ভাষায়, এটা পুতিনের পাগলামিপূর্ণ যুদ্ধ যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছে এবং প্রকাশ্যে একজন ছাড়া আর কেউ এই যুদ্ধকে সমর্থন করে না। 


জেলেনস্কি যুক্তি দেখান, সামান্য ভূখণ্ড দখলের বিনিময়ে রাশিয়াকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার থেকে ২ লাখ ৪৯ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জাতিসংঘের খবরে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার। 


তিনি আরও বলেন, এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে রাশিয়া চলতি বছর ১ হাজার বর্গকিলোমিটারের সামান্য বেশি ভূখণ্ড দখল করতে পেরেছে এবং তারও একটি বড় অংশ ইউক্রেন ইতিমধ্যে পুনরুদ্ধার করেছে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার ভূখণ্ডের জন্য পুতিনকে ২৪৮ জন সেনার জীবন দিতে হচ্ছে। এটা পাগলামি, কিন্তু তারপরও তারা এগিয়ে যাচ্ছে, কারণ পুতিন ঠিক এটাই চায়। 


ভাষণে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, সময়মতো প্রতিরোধ না করায় এই যুদ্ধের প্রভাব এখন ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার পক্ষে ৪৭টি দেশের নাগরিক যুদ্ধ করছে এবং উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার পাশে লড়াই করছে, বিনিময়ে পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিচ্ছে। 


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার রাজস্বই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার ভাষায়, যখন কেউ বাণিজ্যের মাধ্যমে রাশিয়াকে বেশি অর্থ দেয়, তখন সে এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করে। এ কারণেই রাশিয়ার রাজস্বে আঘাত হানা এবং বাণিজ্য সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 


তিনি জানান, রাশিয়া চলতি বছর হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও দশ হাজার ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং আসন্ন শীতে হামলা আরও তীব্র হতে পারে। জবাবে ইউক্রেন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ‘ফ্রেয়া’ নামে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং ইন্টারসেপ্টর ড্রোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, পেশেন্ট জিরোকে থামাতে হবে, তার অর্থ, তার কর্মপরিধি এবং তার যুদ্ধকে সীমিত করতে হবে। 


সম্পর্কিত খবর

;