সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিলুপ্ত, সব কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

প্রকাশ : 20 May 2026
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিলুপ্ত, সব কর্মকর্তা  আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার: মঙ্গলবার, ১৯ মে সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে আইন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সচিবালয়ে কর্মরত সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।


এর আগে অন্তবর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হলেও পরবর্তী বিএনপি সরকার সেটি আর আইনে পরিণত করেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছিল।


সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও ১৯৭২ সালের পর দুই দশকেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। তখন তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক হাইকোর্টে রিট করেন।


রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস করার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং অধস্তন আদালতের বার্ষিক বাজেট সুপ্রিম কোর্ট প্রণয়ন ও বরাদ্দ করবে।


আপিল বিভাগের ওই রায়ের প্রায় আট বছর পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। তবে বাস্তবে তা কাগজে-কলমেই থেকে যায়।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ১০ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ২১ সেপ্টেম্বর এক অভিভাষণে তিনি বলেন, মাসদার হোসেন মামলার রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবিধানের ১১৬ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচারকরা স্বাধীন থাকলেও দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিলোপ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে না। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি।


এরপর একই বছরের ২৭ অক্টোবর পৃথক সচিবালয়ের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। কমিশন জানায়, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ কার্যকর করতে পৃথক সচিবালয় অপরিহার্য।


সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তবে মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনে সেই সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।


সম্পর্কিত খবর

;