পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী ব্যুরো: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাজশাহী শাহমখদুম থানা কমিটির অন্যতম রাজপথের লড়াকু সৈনিক,আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দৈনিক গণকণ্ঠের ফটোসাংবাদিক আবির হোসেন,তাঁর পরিবার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একই পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাটের ওপর চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী রাজপথে গর্জে উঠেছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল।
দলীয় সহযোদ্ধার ওপর এমন পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যেগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা একাত্বতা প্রকাশ করেন।
কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ আলী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের দলীয় সহযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবির হোসেন রাজপথের একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী। তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর এবং সাংবাদিক সম্রাটের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,এটি জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর অপশক্তির আঘাক।
সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অবিলম্বে আমাদের নেতার ওপর হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সমগ্র রাজশাহীকে অচল করে দেবে।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অপর যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল আলম জিতু বলেন, "দিবালোকের আলোয় আমাদের দলীয় সহযোদ্ধা আবির ও তাঁর পরিবারকে কুপিয়ে জখম করার পরও চিহ্নিত আসামিরা কীভাবে পুলিশের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়? পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—অবিলম্বে আওয়ামী দোসর হীরা ও হেলালসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করুন। অন্যথায় রাজপথের আন্দোলন কীভাবে গড়ে তুলতে হয় তা স্বেচ্ছাসেবক দল ভালো করেই জানে। প্রয়োজনে আমরা থানা ঘেরাও কর্মসূচী দেব।"
নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্য আবিরের ওপর হামলা মানেই রাজপথের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর সন্ত্রাসীরা এখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আবির ও সম্রাটের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।
রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী বাহিনী ও তাদের লালনকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।"
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুরুজ আলী পেশাগত নিরাপত্তা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাদের সাংবাদিক ভাই এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবিরের ওপর এই আক্রমণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। চিহ্নিত আসামি হীরা ও হেলাল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো সত্ত্বেও পুলিশের নীরব ভূমিকা রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হায়েনাদের গ্রেপ্তার করা না হলে পুরো রাজশাহী বিভাগের সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে।"
সমাপনী বক্তব্যে কর্মসূচির সঞ্চালক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর আহম্মেদ রেন্টু বলেন, "আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা আবির হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কখনো রক্তচক্ষু বা সন্ত্রাসী হামলায় ভয় পায় না। হামলা চালিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হুশিয়ার করে বলছি, অনতিবিলম্বে চিহ্নিত হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন, নতুবা দাবানলের মতো বিক্ষোভ দাবানল রাজশাহীজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।"
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা,মহানগর ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষে উপস্থিতি ও একাত্মতা জানান কাশিয়াডাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সজিব আহম্মেদ,যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন ও সজিব,রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাহানাজ খুরশিদ রিজভী,জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান রুবেল,১৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোহন আলী এবং চন্দ্রীমা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ফারুক ও ইমরানসহ মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এছাড়াও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো: নুরে ইসলাম মিলনসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক এবং ভুক্তভোগী আবির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য,গত ২ আগস্ট রাজশাহীর শাহমখদুম থানা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী দোসর সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও সাংবাদিক আবির হোসেন,তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট।
সন্ত্রাসীরা তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করলে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হীরা ও হেলালকে প্রধান আসামি করে শাহমখদুম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনো আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পিরোজপুর অফিস: পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠি ...
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ২১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই কৃতকার্য হয় ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলারউ মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। অথচ ...
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে অন্বেষা বিদ্যাপীঠ (স্কুল এন্ড কলেজ) এবং জিপিএ-৫ এ এগিয়ে রয়েছে জেলার সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যাল ...
সব মন্তব্য
No Comments