মোঃ কাওসার হোসেন:
বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের বহুবার সভাপতি—রাহাদ সুমন। কখনো নির্বাচনের মাধ্যমে, কখনোবা সমঝোতার ভিত্তিতে। এতবার নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, মেধা, গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণের একটি বড় স্বীকৃতি।
তিনি কাজ করেছেন দেশের খ্যাতনামা দৈনিক সমকাল, কালের কণ্ঠ ও ইত্তেফাক-এ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অসংখ্য সংবাদ লিখেছেন। তবে তাঁর সাংবাদিকতার যে দিকটি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়, সেটি হলো তাঁর মানবিক সাংবাদিকতা।
বিশেষ করে মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর লেখাগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেও অর্থের অভাবে মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ঘোর অমানিশায় পড়ে যায়, রাহাদ সুমনের কলম তাদের কথা তুলে ধরেছে মানুষের সামনে।
আমি তাঁর সংবাদ সংগ্রহের একজন সারথি। তথ্য সংগ্রহ করে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার পর তিনি যেভাবে একটি সংবাদকে সাজান, উপস্থাপন করেন এবং পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন—সেটি তাঁর সাংবাদিকতার বিশেষ দক্ষতা। একটি ঘটনা কীভাবে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন।
তাঁর এসব মানবিক সংবাদ অনেক সময় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ সেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, নামকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথে একটি সংবাদ, একটি কলম কিংবা একটি মানবিক উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—তার বাস্তব উদাহরণ এসব শিক্ষার্থী।
তবে একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর ভালো-মন্দ, পছন্দ-অপছন্দ এবং রাজনৈতিক পরিচয়—সবকিছুকেই বাস্তবতার আলোকে দেখতে হয়।
রাহাদ সুমন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত—এটি তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি অংশ। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড বা অবস্থান অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আবার কারও কাছে নাও হতে পারে। এটি যার যার রাজনৈতিক বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়নের বিষয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু একজন মানুষের কোনো একটি ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে হলে তার রাজনৈতিক পরিচয়কে একমাত্র মাপকাঠি বানানোও সমীচীন নয়।
আমার এই লেখার উদ্দেশ্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন করা নয়; বরং একজন সাংবাদিক হিসেবে তাঁর মানবিক উদ্যোগ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর ভূমিকা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে স্বীকার করা।
কতিপয় সাংবাদিক যেখানে মানবিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা করেন, সেখানে রাহাদ সুমন অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক প্রত্যাশা ছাড়াই কাজ করেছেন। মানুষের জন্য তাঁর এই দায়বোধই তাঁর সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিক।
একজন শিক্ষক হিসেবে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা।
রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার, কিন্তু মানবিকতার জায়গায় ভালো কাজের স্বীকৃতি সবার প্রাপ্য।
মানুষের জন্য লেখা একটি কলম কখনো শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না—কখনো কখনো সেই কলমই একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের দরজা খুলে দেয়।
রাহাদ সুমনের মানবিক সাংবাদিকতার প্রতি তাই রইল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।###
-লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক, বানারীপাড়া, বরিশাল।
তারিখঃ ২৯-০৮-২০২৬ইং
খোন্দকার মাহ্ফুজুল হক: একটি পরিবার যখন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, খাদ্যসংকট, অসুস্থতা কিংবা আকস্মিক আয়হানির মুখোমুখি হয়, তখন সংকটটি কেবল একজন ব্যক্তির থাকে না—তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। তাই সামা ...
সেলিনা আক্তার:শিশুরা ভবিষ্যৎ জাতির রূপকার। একটি দেশ গড়ে তুলতে শিশুদের সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্ব প্রদান করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাই শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পর ...
একটা সময় ছিল, বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গে বই, শিক্ষা, জ্ঞান, গবেষণা, খেলাধুলা কিংবা কোনো একটি পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকত। এখন সেই স্বপ্নের জায়গায় ধীরে ধীরে ঢুকে প ...
সাইফুল আলম ছদরুল।।রাজনৈতিক মঞ্চের বাগাড়ম্বর, সুশীল সমাজের চটকদার বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা কিংবা শহরের ঝলমলে রেস্তোরাঁর রঙিন আলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে এক নির্মম সত্য। যে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে নামীদামি ...
সব মন্তব্য
No Comments