আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল আবার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার, ২০ জুন ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এ তথ্য জানায়।
ইরানের সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও আগ্রাসন অব্যাহত থাকার” জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলো। একে “প্রথম পদক্ষেপ” উল্লেখ করে সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ ছিল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং প্রণালিতে মাইন পেতে দেয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করে এবং কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালায়।
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের ট্রানজিট ফি মওকুফও ঘোষণা করে তেহরান।
কিন্তু শনিবার ইরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের “প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের” কারণে তারা আবার প্রণালি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আইআরজিসির এক বার্তায় বলা হয়, “লেবানন থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগর থেকে আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রত্যাহার এই চুক্তির প্রধান শর্ত। শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি “কোনো প্রমাণ দেখেননি যে প্রণালি বন্ধ”। তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাইন সরাতে “কিছু সময় লাগবে”।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া তেলের প্রায় ২৫% এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০% এই পথ দিয়ে যায়। প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরান বলছে, ভবিষ্যতে প্রণালি খুললেও জাহাজপ্রতি ট্রানজিট ফি আরোপ করা হবে। জাহাজের ধরন, পণ্য ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ফি’র বিরোধিতা করে আসছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার অন্যতম শর্ত লেবাননে সংঘাত বন্ধ।
শিপিং কোম্পানিগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরান ঘোষণা করেছে, এখন থেকে প্রণালি দিয়ে যেতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে পারস্য উপসাগর স্ট্রেইট অথরিটির কাছে আবেদন করতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্র নিরাপত্তা আবারও বড় হুমকির মুখে পড়বে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে এক মাস আগে ফ্রান্সে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখনও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত এক মাসে শুধু রাজধানী প্যারিস অঞ্চল থেকেই রেকর্ড ১ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।আন্তর্জাতিক সং ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় এ মর্ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে চরম নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে সৌদি আরব। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর হামলার পর বিমানবন্দর ...
সব মন্তব্য
No Comments