অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: বসন্তের কোমল আগমনী বার্তায় ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ আজ আম্রকুঞ্জের মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। মৃদুমন্দ দক্ষিণা বাতাস, ঝলমলে রোদ আর সহনীয় তাপমাত্রার অনুকূলে গাছে গাছে ফুটে ওঠা আমের মুকুল যেন গ্রামবাংলার প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে সম্ভাবনার মিষ্টি ঘ্রাণ। প্রকৃতির এই রূপমাধুর্য শুধু চোখ জুড়ায় না, কৃষকের মনে জাগায় নতুন অর্থনৈতিক আশাবাদও।
জেলার সদর, মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে—ছোট-বড় প্রায় সব আমগাছেই এ বছর মুকুলের সমারোহ। কোথাও কোথাও পুরো বাগান সোনালি-সবুজ আভায় ঢেকে গেছে। মৌমাছির গুঞ্জন, হালকা সুবাস আর সকালের শিশিরে ভেজা মুকুল মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূর্ব নৈসর্গিক আবহ।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ বেশি। যা সম্ভাব্য ভালো ফলনের ইঙ্গিত বহন করছে। সদর উপজেলার এক সাধারণ কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মতো ছোট কৃষক পরিবার পুরো বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে। এবার গাছে গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে মনটা ভরে গেছে। আল্লাহ ভরসা, যদি ঝড়-বৃষ্টি না হয়, তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”
মধুখালীর আরেক আমচাষি শহিদুল শেখের কথায়ও আশাবাদের সুর, “মুকুল আসার সময়টাতে যত্নটাই আসল। আমরা নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করছি, প্রয়োজনমতো বালাইনাশক ব্যবহার করছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চললে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ভালো ফলন হলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচটা স্বস্তিতে চালাতে পারব।”
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না চাষিরা। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা পোকামাকড়ের আক্রমণে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। অনেকেই ইতোমধ্যে বাগানে পরিচর্যা জোরদার করেছেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ঠিকঠাক রাখছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে প্রায় ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় আমচাষ বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমের মুকুল আসার জন্য সহায়ক ছিল। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মুকুল থেকে ফল ধারণ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, সময়মতো সুষম সার প্রয়োগ, বালাই দমন এবং গাছের গোড়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে মুকুল আসার পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সচেতনতা বজায় রাখতে পারলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
প্রতি বছর ফরিদপুরের উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে এ জেলার আম অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে ভালো দাম মিলবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন চাষিরা।
মুকুলে ভরা আমগাছ তাই কেবল একটি কৃষিপণ্যের সম্ভাবনাই নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আশার প্রতীক। বসন্তের এই সময়টিতে ফরিদপুরের গ্রামগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে—আম্রকুঞ্জের সুবাসে, কৃষকের চোখে আগামীর স্বপ্নে।
স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ঢাকায় ১৮তম পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বোর্ড) সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজ ...
অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষিকাজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা। জমি চাষ, সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহন—কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর ন ...
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও কমেনি চরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ভোগান্তি। বন্যায় ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টায় রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ কর ...
সব মন্তব্য
No Comments