জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের তাগিদ

প্রকাশ : 21 May 2026
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু সংকট নিরসনে সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


বৃহস্পতিবার ২১ মে গুলশানের হোটেল সারিনায় খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) আয়োজিত ‘জলবায়ু সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ সভায় জলবায়ু নিয়ে কর্মরত ৫০টির বেশি সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে সিসিডিবির প্রধান নির্বাহী জুলিয়েট কেয়া মালাকার সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিসিডিবি ২০০৭ সাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করছে। বর্তমানে দেশের ২৯টি জেলায় ১ লাখের বেশি পরিবারের সঙ্গে কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। কার্বন এমিশন রিডাকশন প্রকল্পের আওতায় ২,৭৬৫টি উন্নত চুলা ব্যবহারের ফলে প্রতি পরিবার বছরে প্রায় ৩.২০ টন CO₂ নির্গমন কমাচ্ছে।


জলবায়ু গবেষক ড. হাসিব মোহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান, ন্যাশনাল প্ল্যান, জেন্ডার একশন প্ল্যানসহ নানা নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়ন পরিপূর্ণ নয়। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP ২০২৩–২০৫০) বাস্তবায়নে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ২০২৬ অর্থবছরে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের মাত্র ৬.২২ শতাংশ সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণে বরাদ্দ হয়েছে, যা আরও বাড়ানো দরকার।’ তিনি ‘ন্যাচারাল বেইজড সলিউশন’ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৪,৭০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ০.০৩ শতাংশ জনস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ। অথচ জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যেই।’ তিনি এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।


কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিঃ মণীষ আগারওয়াল উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তুলে এভিডেন্স বেইজড প্রোগ্রামের ওপর জোর দেন।


মূল প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ধরিত্রী কুমার সাহা, কর্ডএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাউয়ে ডিকস্ট্রা এবং সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক।


অনুষ্ঠানের শেষে সিসিডিবির ৮ম ব্যাচের জলবায়ু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান এবং একটি এলামনাই নেটওয়ার্ক উদ্বোধন করা হয়।

সম্পর্কিত খবর

;