গণশুনানি ফিরিয়ে এনেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে হবে

প্রকাশ : 24 Sep 2026
গণশুনানি ফিরিয়ে এনেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে হবে


ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, বিকেল ৫:৩০ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আয়োজনে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করার দাবিতে যুব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যুব বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জাহিদ সুজন।


সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, একলাফে ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারের গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনস্বার্থকে অবহেলা করে এমন সিদ্ধান্ত সরকারের গোয়ার্তুমীই বটে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে অচিরেই দেশীয় উৎপাদন বাহত হবে, দেশব্যাপী জনঅসন্তোষ তৈরি হবে, বেকারত্ব আরও বাড়বে। অথ্যাৎ জনগণের জীবনের সমস্যাকে চিন্তা না করে পুরনো কায়দায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে যে সার্বিক সংকট তৈরি হচ্ছে তার সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, কেবল বিরোধীতা এবং প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে ৫৫ বছরেও দাঁড়াতে দেয়নি। কেবল বিরোধিতার নামে তর্জন-গর্জন নয় বরং বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন পুনর্গঠনের রাজনীতি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দরকার ঐক্যমতে রাজনীতি। ন্যূনতম দাবি এবং বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে পরিচালিত করতে পারলে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব। নাগরিক মর্যাদা ও সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


যুব বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য করা বৃদ্ধির চলবে না। পুরনো বন্দোবস্ত বহাল রেখে গণতান্ত্রিক পরিসর আরও সংকুচিত করছে বিএনপি। গণতন্ত্র শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে জনগণের মতামত, আলোচনা ও বিতর্কের পরিসরও অতি জরুরি। সুতরাং গণশুনানি ফিরিয়ে আনতে হবে। 


বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর সিদ্ধান্ত বরং সার্বিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। চলমান সংকট মোকাবেলায় মূল্য বৃদ্ধির বদলে ভর্তুকি, অপচয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নীতিকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। 


জুলহাসনাইন বাবু বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আগে গণশুনানি ছিল জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০২২ সালে বিগত সরকার গণশুনানির নীতি বাতিল করে জনগণের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত পতিত আওয়ামী লীগের গণবিরোধী পথ পরিহার করা। কৃষিও শিল্প উৎপাদন, জনজীবন ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে সংকট মোকাবেলার অপচেষ্টা নয়—গণতন্ত্র ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবেলা করতে হবে। 


জাহিদ সুজন বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেত হবে। প্রয়োজনে সংকটকালে পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে। সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করতে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে না চাইলে ভুল করবে।


বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুঁইয়া বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও খেটে খাওয়া জনগণ।



এছাড়াও যুব বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুছা কলিমুল্লাহ, রাজা আহম্মেদ জুম্মন ও আইরিন আক্তার, যুব ফেডারেশনের সদস্য রুবেল মিয়া হিমু ও জাসেম আলম, কবি রাসেল, গণসংহতি আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলিফ দেওয়ান, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুঁইয়াসহ নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত খবর

;