ডেস্ক রিপোর্ট:মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তারা এখনো নির্দিষ্ট কোনো মতামত দেয়নি।
বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরেন। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, "আমরা বুঝতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি"।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ফাঁসির রায় মাথায় নিয়েই আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, তবে তার আগে নিজের নিরাপত্তা এবং অনুপস্থিতিতে চলা বিচার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চেয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে মার্কিন অবস্থান জানতে চাওয়া হলে কর্মকর্তা সাফ জানান, "এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি"।
ব্রিফিংয়ের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "আমরা দক্ষিণ এশিয়াকে বিশ্বের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখি যেখানে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যেন আমরা আরও বেশি মনোযোগ দিই"।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই সপ্তাহে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলাও সম্ভব হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, "বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাই"।
নির্দিষ্ট করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে"।
অন্য এক প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন চায় না বাংলাদেশকে কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করা হোক। যুক্তরাষ্ট্র বরং বিকল্প হতে চায়, বিশেষ করে জটিল অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর খাতে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সহায়তা দিতে চায়। তিনি বলেন, "আমরা বলছি না যে, আপনাকে কাউকে বেছে নিতে হবে; আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প হতে চাই"।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের শঙ্কা নেই। এ কারণে চার সমুদ্রবন্দর থেকে সব সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ হ ...
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন।প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমি ...
বিশেষ প্রতিনিধ, নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA)-এর ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স Sheikh Sabah Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah-এর স ...
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ ...
সব মন্তব্য
No Comments