দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর

প্রকাশ : 02 Aug 2026
দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর

ডেস্ক রিপোর্ট: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।


দেশটির একটি আদালত গত সোমবার ২৭ জুলাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। শনিবার ২ আগস্ট কালের কণ্ঠ সহ একাধিক গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।


দুবাইয়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। এর মধ্যে বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।


প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ গত ১২ জুন দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায় দুবাই পুলিশ।


বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচার চলছে। এই মামলায় ৩৮ জনের মধ্যে ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।


দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় অনুরোধপত্র তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে এই অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।


উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে তালিকায় তার নামও ছিল। ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন তিনি।


সম্পর্কিত খবর

;