ইবি প্রতিনিধি : অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে ক'মাস ধরেই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত বছরের ১৭ আগস্ট চালু হয় সর্বজনীন পেনশন। তখন এতে চারটি স্কিম (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) রাখা হয়। এই ঘোষণার সাত মাস পর যুক্ত করা হয় নতুন স্কিম ‘প্রত্যয়’। এতেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে কর্মবিরতি সহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
এরই অংশ হিসেবে প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার সহ পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখা, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন কার্যকর করা এই তিন দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে আসছে সংগঠনটি। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালন করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)।
এসব কর্মসূচির বেড়াজালে আটকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম। ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। করোনার প্রাদুর্ভাবে যেভাবে পিছিয়ে পড়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ঠিক তেমনটাও ভাবছেন শিক্ষার্থীরা। এই লাগাতার কর্মসূচির মধ্যে পড়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নানান সমস্যায় ধুকলেও এসব বিষয়ে কখনো সরব হন না শিক্ষকরা। তবে,সরকারের একটা সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদের স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানতেই কর্মবিরতির মতো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি যেনো বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে আবার শিক্ষকরা শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে আসেন।
আগামী ১ জুলাই থাকা পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথেও কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসা নিয়েও দোটানায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। বিভাগ থেকেও পরীক্ষা হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। এদিকে আবার শিক্ষক সমিতির পহেলা জুলাই থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতির জন্য পরীক্ষা হওয়া নিয়েও সংশয় তাদের মনে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা আগামী ১ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম থেকে সরে আসারা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার কথা আছে। তবে সরকারের সাথে যে-কোনো সময় সমঝোতা হয়ে গেলে আমাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাচ্ছে না। তবে যদি সরকার আলোচনায় না বসে সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, দাবি মানা না হলে দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে সেটা ফেডারেশনের প্রজ্ঞাপনেই বলা আছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আগামী ১ তারিখ থেকে চলমান পরীক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ১ তারিখ থেকে চলমান সকল পরীক্ষাও স্থগিত থাকাবে তাতে বলা আছে। বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে যারা আন্দোলনে আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আমি চাইবো যেনো দ্রুত এর একটা সমাধান হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এধরণের আন্দোলন বা কর্মসূচি চলমান থাকলে অবশ্যই সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হতে পারে৷ তবে শিক্ষকরা চাইলে আবার সেই ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নিতে পারবেন। আমার শিক্ষকদের প্রতি আহবান থাকবে যখন বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে তারা যেনো এই বিষয়ে নজর দিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি - এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানি ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজধানীর মাতুয়াইলের একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাসসহ দুটি বাস পুড়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১ ...
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের একজন ভালো ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভা ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামে ...
সব মন্তব্য
No Comments