অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল (নাম) মারা গেছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। মৃত্যুর আগে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দুই মাস।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে পড়লে কনিকাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলির সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
অশান্তের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই কনিকাকে পেট ফুলে যাওয়া ও তীব্র ব্যথায় ভুগতে হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি তা গুরুত্ব দেননি বলে দাবি পরিবারের। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের ভাষ্য, সেখানে ৭ জুলাই চিকিৎসক ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকের পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ বা ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়।
এরপর দীর্ঘদিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কনিকা। শেষ পর্যন্ত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত গৃহবধূর স্বামী অশান্ত মণ্ডলের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে ভুল স্বীকার করেন ও ক্ষমা চান। সেই বার্তায় তিনি লেখেন, “দাদা নমস্কার। ভালো থাকুন ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি। সব কথার আগে করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার ভেতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি বারবার ক্ষমাপ্রার্থী আপনার কাছে। অনেক কষ্টে আছি। আবারও ক্ষমা চাচ্ছি দাদা।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমরিতা হাসপাতালে গিয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার বাসায় গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। দারোয়ানের মাধ্যমে জানা যায়, চিকিৎসক বাসায় থাকলেও কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার নির্দেশ রয়েছে।
সমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহশিন শরীফ বলেন, তার হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানেন না। তবে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুজয় ঘোষ, নড়াইলঃ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নড়াইলে ভোক্তা অধিকার সংক্ষণ আইন-২০০৯ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক সভা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভ ...
আনিছ আহমেদ(শেরপুর)প্রতিনিধিঃ শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও থামছে না মাদক পাচার। বরং মাদক পাচারের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের প্রবেশ ঠেকাতে এবার ...
স্টাফ রিপোর্টার: সংগীতশিল্পী ও গবেষক এস এম শামীম আকতার দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় লৌকিক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সংগীত রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বাংল ...
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য লোড করার সময় দুর্ঘটনায় আক্তারুল ইসলাম (৫০) নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ...
সব মন্তব্য
No Comments