নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশ : 16 Jun 2026
নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম সুমনা ফেরদৌসী (৩৮)। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।


সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া গ্রাম থেকে লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।


নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। পরে সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামে বসবাস শুরু করেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন পুলিশকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। সোমবার সকালে এ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এরপর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।


পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


সুরতহাল প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে রাতেই লিমন মল্লিককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;