দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজে অনার্স শাখায় নিয়োগ পাওয়া ৮ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ২ কোটি টাকার অর্থ বাণিজ্য করে অবৈধ পন্থায় তাদের বেতন ছাড় করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দৌলতপুর কলেজের শিক্ষক সহ সর্ব মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে অর্থ বাণিজ্যের সাথে জড়িত দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্ষমতার দাপটে দৌলতপুর কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ নেওয়া পলাতক থাকা অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন অনার্স শাখায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া ১১জন শিক্ষকের কাছ জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের প্যাটার্ন বর্হিভূত ও অবৈধভাবে বেতন ছাড় করিয়েছেন। শিক্ষা দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এবং দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার সুবাদে অধ্যক্ষ সুমন অবৈধভাবে ১১জন অনার্স শাখার শিক্ষকের বেতন করানোর পর এবার একইভাবে আরো ৮জন অনার্স শাখার শিক্ষকদের বেতন করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দৌলতপুর কলেজের বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স (সম্মান) শাখায় প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া মো. রবিউল ইসলাম, আয়েশা খাতুন, মো. রঞ্জু আহমেদ, মো. গোলাম মোর্শেদ, মোসা মুনিরা নাসরিন, মোছা. রাবেয়া খাতুন, কামরুন নাহান ও মোছা. হালিমা খাতুনের কাছ থেকে বেতন করানোর শর্তে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন এমন অভিযোগও রয়েছে এবং বিষয়টি কলেজ সংশ্লিষ্ট সকলে অবগতও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ও ভূক্তভোগীদের দাবি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের সরকার পরিবর্তন হলেও দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সুমন পলাতক থেকেও বৈষম্যমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। তাই তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধভাবে ছাড় করা শিক্ষকদের বেতন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে নতুন করে অবৈধভাবে কারো বেতন ছাড় না হয় সে বিষয়টিও নজরে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রদর্শক মো. জহুরুল আলম জানান, বিগত সরকারের সময় দৌলতপুর কলেজের অধ্যÿ ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন অনার্স শাখায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া ১১জন শিক্ষকের কাছ মোটা অংকের অর্র্থ বাণিজ্য করে তাদের প্যাটার্ন বর্হিভূত ও অবৈধভাবে বেতন ছাড় করিয়েছেন। একইভাবে বর্তমান সরকারের সময়েও আরো ৮জন অনার্স শাখার শিক্ষকদের বেতন করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এরসাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমনের কাছে ফোন দিলে তাঁর মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এবিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি তেমন কিছু জানিনা। ফেসবুকের মাধ্যমে আমিও জানতে পেরেছি। এর সত্যতা পেলে ও কাগজপত্র যাচাই করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে দৌলতপুর কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ¦ আলতাব হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলেজের গভর্নিং কমিটির আগামী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে এবং তদন্ত করে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি - এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানি ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজধানীর মাতুয়াইলের একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাসসহ দুটি বাস পুড়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১ ...
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের একজন ভালো ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভা ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামে ...
সব মন্তব্য
No Comments