দক্ষিণ সিটি প্রশাসক

ফুটপাতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিবে সরকার

প্রকাশ : 15 Apr 2026
ফুটপাতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর জনদুর্ভোগ কমানো এবং নগর পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে ফুটপাতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, “রাজধানী ঢাকা দেশের মুখ। এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা সবার দায়িত্ব। হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফুটপাতে অবাধে ব্যবসা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। তবে হকার ও রিকশাচালকদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করা হবে। নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এনে সিটি কর্পোরেশন থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে পুলিশের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।


তালিকা সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও সংখ্যার ভিত্তিতে হকারদের বসার অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। “উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসনই আমাদের লক্ষ্য,”—যোগ করেন প্রশাসক।


ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় গ্রাফিতি অঙ্কন, ৫৫০টি ফুলের টব ও ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণ করা হয়েছে।


এছাড়া, রোগীর স্বজনদের জন্য ৫০টি বসার আসন এবং পাহাড়ের আদলে দুটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।


অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। জনগণের ইতিবাচক সাড়া পেলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য ব্যস্ত ফুটপাতেও একই ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

;