ডুয়েটের উপাচার্যকে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ডুয়েট ব্লকেড, অচল ক্যাম্পাস

প্রকাশ : 18 May 2026
ডুয়েটের উপাচার্যকে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ডুয়েট ব্লকেড, অচল ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইকবালকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে সোমবার, ১৮ মে সকাল থেকেই পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের খবর প্রকাশের পরই রাত ৯টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।


১৭ মে রোববার সকাল ১০টার দিকে উপাচার্যকে স্বাগত জানাতে আসা মোটরবহর ঠেকাতে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও বহিরাগতদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।


সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ভাঙচুর, আগুন দেওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গেট ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলছেন, ধোঁয়া ও টিয়ারশেলের মধ্যে আহত শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ব্লকেড কর্মসূচি চলবে। চতুর্থ দিনের আন্দোলনের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান আসেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের এনে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইকবাল এখনও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।


ডুয়েট ক্যাম্পাসে অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত ক্লাস, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ কর্মচারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির একাংশ।




সম্পর্কিত খবর

;