শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করছে ভারত, অবস্থানে পরিবর্তন নেই: জয়সোয়াল

প্রকাশ : 17 Jul 2026
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করছে ভারত, অবস্থানে পরিবর্তন নেই: জয়সোয়াল

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ শুক্রবার দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই। 


রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “যেকোনো প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। এটি সেই অনুযায়ীই মোকাবিলা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন নেই।” 


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের পর তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। গত ১০ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। 


বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। গত ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। ভারত তখন জানায়, অনুরোধটি তাদের বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। 


এদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা ফিরে এলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে বিচার চলবে। 


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশ উন্নয়ন প্রকল্প, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। 


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ সংক্রান্ত ব্যতিক্রম ধারা রয়েছে। এই ধারার আওতায় অনুরোধকারী রাষ্ট্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ বিবেচনা করলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। 


বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা দণ্ডিত অপরাধী। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁকে কারাগারে যেতে হবে। 


সম্পর্কিত খবর

;