রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: কম খরচে অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ। চলতি ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। একই সময়ে ইরি-বোরো ও অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ কমেছে প্রায় ৭-১০ শতাংশ বলে জানিয়েছে বরিশাল কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর। এ বছর ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৮৬ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৩৬৩ হেক্টর জমিতে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ইরি-বোরো ধানের আবাদ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার হেক্টরে, যা গত বছর ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর। রবি ফসল (গম, সরিষা, মুগডালসহ) মিলিয়ে আবাদ কমেছে প্রায় ১৫-২০ হাজার হেক্টর।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরি-বোরো চাষে প্রতি হেক্টরে গড়ে খরচ হয় ৮৫-৯৫ হাজার টাকা, সেখানে সয়াবিনে খরচ পড়ে ৪৫-৫৫ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টরে সয়াবিনের ফলন গড়ে ১.৪ থেকে ১.৮ টন। বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি ৬৫-৭৫ টাকা হওয়ায় কৃষকরা ভালো মুনাফার আশা করছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ধান চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। সয়াবিনে খরচ অর্ধেক, লাভ তুলনামূলক বেশি তাই আমরা সয়াবিন চাষে যাচ্ছি।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে সয়াবিন ভালো ফলন দিচ্ছে। তুলনামূলক কম সেচনির্ভর হওয়ায় খরচ কমছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, একমুখী ফসল আবাদ দীর্ঘমেয়াদে মাটির পুষ্টি ও বাজারদরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ও বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ কিছুটা কমে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, ধান ও অন্যান্য রবি শস্যের পরিবর্তে অনেক জমিতেই এখন সবুজ সয়াবিনের সমারোহ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা সহনশীল ও তুলনামূলক কম সেচনির্ভর ফসল হওয়ায় সয়াবিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে ইরি-বোরো চাষে বেশি সেচ ও সার প্রয়োজন হয়, সেখানে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে সয়াবিন বেছে নিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ইরি-বোরো চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বেশি। অন্যদিকে সয়াবিনে খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারদরও স্থিতিশীল থাকায় লাভের সম্ভাবনা বেশি। ফলে একই জমিতে কম বিনিয়োগে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশায় তারা ফসল পরিবর্তন করছেন।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলের বৈচিত্র্য বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত সয়াবিন আবাদে মাটির পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও বাজার ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, বাজার স্থিতিশীল থাকলে আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরি-বোরো ধানের আবাদ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলে আগামী মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ইরি-বোরো ধানের আবাদ ধরে রাখা জরুরি। পরিকল্পিত ফসল ব্যবস্থাপনা না হলে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ঢাকায় ১৮তম পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বোর্ড) সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজ ...
অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষিকাজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা। জমি চাষ, সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহন—কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর ন ...
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও কমেনি চরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ভোগান্তি। বন্যায় ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টায় রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ কর ...
সব মন্তব্য
No Comments