যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ‘যে কোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি’: আব্বাস আরাগচি

প্রকাশ : 13 Jun 2026
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ‘যে কোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি’: আব্বাস আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের সমঝোতা ‘যে কোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি’ পৌঁছেছে। শুক্রবার, ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি এবং গণমাধ্যমকে চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। 


আরাগচি জানান, প্রস্তাবিত সমঝোতাটি ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত এবং এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে, যার আওতায় সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ এবং পুনরায় হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 


দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আরাগচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পারমাণবিক বিষয়ে অর্থবহ আলোচনার উপযোগী নয়। তাই সংবেদনশীল এই বিষয়টি প্রায় ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপ সফল হলে তবেই দ্বিতীয় ধাপে যাওয়া সম্ভব। 


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। এর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভিন্ন হবে এবং ইরান ও ওমান যৌথভাবে সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। ইরান জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 


প্রেসটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু না করা এবং হুমকি না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও এতে থাকবে। তবে ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো জব্দ অর্থ পাবে না। 


একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তিটি ‘একেবারে শেষ পর্যায়ে না পৌঁছালেও খুব কাছাকাছি’। তার মতে, সমঝোতা স্মারকে ‘উল্লেখযোগ্য’ নিষেধাজ্ঞা ছাড় এবং ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার কথা থাকবে। বিনিময়ে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলা এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে। 


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বিলুপ্ত করতে এবং পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে সম্মত হয়েছে। এটি একটি ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক চুক্তি’, অর্থাৎ ইরান শর্ত পূরণ করলেই নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ ছাড় হবে। 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে আরাগচির এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। এর আগে তিনি ইরানি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তির শর্তকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেন। 


চুক্তির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.০৫ ডলার কমে ৮৭.৩৩ ডলারে নেমেছে, যা মার্চের পর সর্বনিম্ন। 


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক্সে লিখেছেন, ‘শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় পৌঁছানো গেছে এবং পাকিস্তান এখন উভয় পক্ষের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শান্তি এখন আগের চেয়ে অনেক কাছে।’ 


ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও এক্সে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হবে। কোনো যদি, কিন্তু, অজুহাত নয়। সামনের কাছাকাছি চুক্তির জন্য অন্য কোনো পথ নেই।’ 


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জেনেভা ও মাসকাটে কয়েক দফা পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। 


আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ছাড়বে না। তিনি বলেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্তে কোনো চুক্তি হবে না।’ 


সম্পর্কিত খবর

;