সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে ৪৫ বছর পর গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেজর মোজাফফরকে আটক করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় তিনি অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক বিবরণ ও মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রাম যান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটানো। রাতে সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে সেনাবাহিনীর একটি বিদ্রোহী দল অতর্কিত হামলা চালায়। মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন এ হামলায় সরাসরি অংশ নেন। বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথিতে বলা হয়েছে, মেজর মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তার দিকে গুলি ছোড়েন।
হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে জানান, ‘The President has been killed’। পরদিন ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়। এরপর সেনাবাহিনীর অভিযানে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর গ্রেফতার হন এবং পরে নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেফতার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফর ভারতে আত্মগোপনে চলে যান। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচারিক ব্যবস্থায় এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যা মামলা। এ মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা অন্যতম প্রধান আসামির গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট অফিস: অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধী সে অপরাধীই, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অ্যাফিলিয়েশন দেখ ...
স্টাফ রিপোর্ট: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক মতা ...
স্টাফ রিপোর্টার: নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বল ...
সব মন্তব্য
No Comments