সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশ : 13 Jul 2026
সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই জাতীয় সনদ ও উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত ৫টি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। জনরায়কে উপেক্ষা করে এই কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।


আজ সোমবার স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটির সভাপতি করা হয় সালাহউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্যকে। কমিটির সদস্যরা হলেন— মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, বরগুনা-২; মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-১; জয়নাল আবেদিন, বরিশাল-৩; মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬; হাবিবুর রহমান, ভোলা-১; মোহাম্মদ নুরুল হক, পটুয়াখালী-৩; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫; ফারজানা শারমিন, নাটোর-১; সাকিলা ফারজানা, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১; মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-৩ এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, বরগুনা-১। বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ ৫টি পদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে।


প্রস্তাব উত্থাপনের পর ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম অধিবেশনেই এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব এলে সেদিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। এরপর কয়েক দফা আলোচনা হলেও বিরোধী দল নীতিগতভাবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে সব দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন জনমতের পরিপন্থী। তিনি বলেন, প্রায় ৬৮.৬ শতাংশ মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করা হলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা হারাবে। এই বক্তব্য শেষে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।


বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের মূল প্রত্যাশা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল। আইনসভায় এটি বাতিল না হলে উচ্চ আদালতের রায়ের পরও বিতর্কিত সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করেই দেশ চলবে। তাই সংবিধান সংশোধন ছাড়া নতুন প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। দুটি শপথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির অধিবেশন আহ্বান ও সংসদের কার্যক্রম চলছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ ও তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা শপথের বিধান নেই। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদের নামে নেওয়া দ্বিতীয় শপথের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।


গণভোট সংক্রান্ত আদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আদেশ’ বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ’ প্রথম দিন থেকেই এখতিয়ার-বহির্ভূত। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের পূর্ণ এখতিয়ার সংসদের। তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদের বেশিরভাগ অংশ মানা হলেও সংবিধানের ওপর হস্তক্ষেপ করে এমন অংশ মানা হবে না। বিরোধী দলকে সংসদে এসে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের বাইরে কমিটি করে সংবিধান সংশোধন সম্ভব নয়। সংশোধন না হলে পঞ্চদশ সংশোধনী বহাল থাকবে, যা কেউ চায় না।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কমিটি দ্রুত কাজ শুরু করবে। বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি, সুপ্রিম কোর্ট বার, গণমাধ্যম সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা হবে। সকল পক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল আবেগসর্বস্ব রাজনীতি পরিহার করে শক্তিশালী সংশোধনী বিল প্রণয়নে সহযোগিতা করবে।


সম্পর্কিত খবর

;