৭৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

ডিএসসিসির জরিপে উঠে এলো এডিস মশার ভয়াবহ চিত্র

প্রকাশ : 04 Jun 2026
ডিএসসিসির জরিপে উঠে এলো এডিস মশার ভয়াবহ চিত্র

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্তকরণে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চালানো এই জরিপে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৬টি ওয়ার্ড মাঝারি এবং ১১টি ওয়ার্ডকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চল-১ এর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ১৫, ১৭, ২০ ও ২১ নম্বর। মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাধারণ ঝুঁকিতে ১৬ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চল-২ এ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড। এই অঞ্চলে ১, ৩, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ।


অঞ্চল-৩ এ ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ১৪, ২২ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ। অঞ্চল-৪ এর ৩২, ৩৬ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিতে আছে। ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৪২ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ।


অঞ্চল-৫ এ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড ১০টি—৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১ ও ৫৩ নম্বর। এই অঞ্চলে ৪১, ৪৮ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। অঞ্চল-৬ এ ৭০ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৬৯ ও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিতে রয়েছে।


অঞ্চল-৭ এর ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। অঞ্চল-৮ এ ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৬৬ ও ৬৭ নম্বর মাঝারি এবং ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ। অঞ্চল-৯ এর ৬২ নম্বর ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৬৫ নম্বর মাঝারি এবং ৬৩ ও ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিতে আছে। অঞ্চল-১০ এর ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে এই জরিপ চালানো হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমে থাকা পানি অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন করতে কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন।


চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।


সম্পর্কিত খবর

;