ডেস্ক রিপোর্ট: এক সময় টেলিভিশনের পর্দা মানেই ছিল ভারী কাচের একটি স্ক্রিন। রং ছিল ফ্যাকাশে, কনট্রাস্ট সীমিত, আর আলো-আঁধারির পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যেত না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে টেলিভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এর ডিসপ্লে। পর্দার মান যত উন্নত হয়েছে, ছবি তত বেশি পরিষ্কার হয়েছে, রঙ হয়েছে আরও স্বাভাবিক, আর দীর্ঘ সময় দেখলেও চোখে ক্লান্তি কম লাগে। ফলে টেলিভিশন দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে টিভি কেনার সিদ্ধান্তেও। এখন শুধু আকার বা বাহ্যিক নকশা নয়, ডিসপ্লে প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এই বা¯Íবতায় শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো নানা ফিচার ও প্রযুক্তির অসংখ্য মডেলের টিভি বাজারে এনেছে। তবে এসব মডেলের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় এতে ব্যবহৃত ডিসপ্লে প্রযুক্তি। কারণ, ছবি কতটা পরিষ্কার হবে, রঙ কতটা স্বাভাবিক দেখাবে, উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্ট কেমন হবে- সবকিছুর নির্ধারণ করে এই প্রযুক্তিই।
বর্তমানে প্রচলিত ডিসপ্লে প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে এলসিডি, এলইডি, মিনি-এলইডি, কিউএলইডি ও ওএলইডি। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি হিসেবে কিউ-ওএলইডি ও মাইক্রো এলইডিও নজরে আসছে। প্রতিটি প্রযুক্তিরই পিকচার কোয়ালিটি, উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট এবং দামের ক্ষেত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই টিভি কেনার আগে এসব প্রযুক্তির পার্থক্য জানা জরুরি, যাতে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই এখনকার শীর্ষ টিভি নির্মাতারা বেশি ঝুঁকছেন ‘কোয়ান্টাম ডট’ প্রযুক্তির দিকে। কারণ এই প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ছবি দেখাতে সক্ষম। কোয়ান্টাম ডট হলো অতি ক্ষুদ্র মানবনির্মিত সেমিকন্ডাক্টর কণিকা। কণিকার আকার অনুযায়ী নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো ও রঙ নির্গত হয়। আলো বা বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলে কোয়ান্টাম ডট নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইথে রঙ ছড়ায়। এর ফলে টিভির পর্দায় ফিকে রঙের বদলে দেখা যায় অসংখ্য সূক্ষ্ম রঙের শেড। এতে ছবির রঙ হয় আরও স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত। সূর্যের আলো বা প্রতিফলন থাকলেও রঙের তেমন তারতম্য হয় না। অ্যানিমেশন ও খেলাধুলার দৃশ্য হয় উজ্জ্বল, আর সিনেমা বা গেম খেলার সময় অন্ধকার দৃশ্যেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে প্রতিটি খুঁটিনাটি।
এই আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর পাশাপাশি বাজারে এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে এলসিডি ও এলইডি ডিসপ্লে। এলসিডি প্রযুক্তিতে ব্যাকলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয় ‘কোল্ড ক্যাথোড ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প’ (সিসিএফএল)। পরবর্তী সময়ে এর উন্নত সংস্করণ হিসেবে আসে এলইডি। এখানে ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্পের বদলে ব্যবহার করা হয় ‘লাইট-এমিটিং ডায়োড’ বা এলইডি, সঙ্গে থাকে লিকুইড ক্রিস্টাল প্যানেল। এই পরিবর্তনের ফলে আগের তুলনায় ছবি হয় আরও উজ্জ্বল ও পরিষ্কার, এমনকি উজ্জ্বল আলোতেও স্ক্রিনের মান স্বচ্ছ থাকে।
এলইডি বাজারে আসার আগে এলসিডি-ই ছিল ভোক্তাদের জন্য সেরা বিকল্প। এলইডি প্রযুক্তি আসার পর স্বাভাবিকভাবেই ডিসপ্লের মানে বড় ধরনের উন্নতি ঘটে; উজ্জ্বলতা, রঙের প্রাণবন্ততা ও কনট্রাস্ট বৃদ্ধি পায়। তুলনামূলকভাবে এলসিডি স্ক্রিন দর্শকদের কাছে কিছুটা ফিকে মনে হতে পারে এবং এতে কনট্রাস্ট ও রঙের নির্ভুলতা কম থাকে।
এদিকে, সর্বশেষ বাজারে আসা কোয়ান্টাম ডট (কিউডি) প্রযুক্তিতে নীল এলইডি আলো ও কোয়ান্টাম ডট ব্যবহার করে রঙ তৈরি করা হয়। এতে রঙ হয় স্থির ও উজ্জ্বল। সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যায় না। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, গেমিং বা সিনেমা দেখার সময় চোখেও কম ক্লান্তি বোধ হয়।
দামের দিক থেকে কোয়ান্টাম ডট টিভি সাধারণত ওএলইডি টিভির তুলনায় সস্তা। এগুলো গতানুগতিক এলসিডি টিভির চেয়ে উন্নত মানের ছবি দেয়। খুব পাতলা নকশার এই টিভিগুলো ভালো কনট্রাস্ট পারফরম্যান্স দেয় এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে বেশি সংখ্যক মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকে। পাশাপাশি কোয়ান্টাম ডট সমৃদ্ধ এলইডি টিভির স্থায়িত্ব সাধারণত ওএলইডি টিভির চেয়ে বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারেও এগুলো সুবিধাজনক।
তবে টিভি কেনার ক্ষেত্রে এতে আসল কিউএলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ বাজারে অনেক ব্র্যান্ড তাদের পণ্যকে কিউএলইডি বলে প্রচার করলেও বা¯Íবে অনেক মডেলই প্রয়োজনীয় মানদÐ পূরণ করে না। এসব তথাকথিত কিউএলইডি টিভিতে অনেক সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় কিংবা প্রকৃত কোয়ান্টাম ডট ¯Íরই থাকে না। এর ফলে ছবির উজ্জ্বলতা কমে যায়, রঙ নি¯েÍজ দেখায় এবং স্ক্রিনের সূক্ষ্মতা নষ্ট হয়।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দর্শকের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সুরক্ষাও এখন বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষার মাধ্যমে টিভি মডেল যাচাই করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। ভোক্তারাও ধীরে ধীরে এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। কিন্তু বা¯Íবতা হলো, অনেক ব্র্যান্ডের কাছেই স্বীকৃত আন্তর্জাতিক পরীক্ষাকরণ সংস্থার সনদ নেই, যা পণ্যের মান ও নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জার্মানির ‘টিইউভি রাইনল্যান্ড’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সনদ টিভির মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দর্শকের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি টিভি মডেল যাচাই করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। বর্তমানে ভোক্তারা নিজদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে সচেতন হচ্ছেন। অধিকাংশ টিভি ব্র্যান্ডেরই স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক পরীক্ষাকরণ সংস্থার সনদ নেই, যা তাদের পণ্যের মানের প্রকৃত নিশ্চয়তা দেয়। এক্ষেত্রে জার্মানের ‘টিইউভি রাইনল্যান্ড’ এর মতো সম্মানিত সংস্থার সনদ প্রাপ্তি টিভির মান ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে। স্যামসাং এর ‘রিয়েল কিউএলইডি টিভি’-র মতো খুব অল্প কয়েকটি টিভি এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, আধুনিক টেলিভিশন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ডিসপ্লে প্রযুক্তিই বড় ভূমিকা রাখছে। কোয়ান্টাম ডট প্রযুক্তি মান, উজ্জ্বলতা ও দামের সমন্বয়ে অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। দামের সঙ্গে মানের যথাযথ সমন্বয়ের ফলে অনেকের কাছেই কোয়ান্টাম ডট টিভি হয়ে উঠেছে এক বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পছন্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে দেশের বাজারে সব ধরনের সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪২০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার, ৬ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষার স্নিগ্ধতা, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে একসূত্রে গাঁথতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজন করেছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষ ...
স্টাফ রিপোর্টার: তেজাবি স্বর্ণ ও রৌপ্যের পিগল গোল্ড ও সিলভারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন-বাজুস। আজ ৩ জুলাই, ২০২৬ শুক্রবার সকা ...
সব মন্তব্য
No Comments