দৌলতপুরে মাচায় পড়ে ছিল চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ

প্রকাশ : 24 Jul 2026
দৌলতপুরে মাচায় পড়ে ছিল চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ধর্মদহ গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে ওই চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।


গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে বাঙ্গাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে মাঠের মধ্যে থাকা বাঁশের মাচায় রক্তাক্ত মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী তেকালা ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।


হত্যাকাণ্ডের শিকার সামিরুল শাহ একই ইউনিয়নের তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন।


এর আগে নিহত সামিরুল শাহ পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা থেকে এসে দীর্ঘদিন ধরে তেকালা এলাকায় বসবাস করে আসছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।


নিহতের বড় ছেলে আবু সাঈদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তাঁর বাবা ও দুই মামা বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে একই এলাকার মুন্টু (৫০) ফোন করে তাঁর বাবাকে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়ে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের বাড়ি যেতে বলে মুন্টুর সঙ্গে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে থেকে যান। এরপর থেকে তাঁর (বাবার) মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ও রাতে মুন্টুর কাছে বাবার খোঁজ-খবর জানতে চাইলেও তিনি কোনো সঠিক তথ্য দেননি। গতকাল শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ধর্মদহ গ্রামের রাস্তার পাশের একটি বাঁশের মাচায় বাবার (সামিরুলের) মরদেহ পড়ে রয়েছে।


খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ধর্মদহ এলাকায় সামিরুল শাহ নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


সম্পর্কিত খবর

;