টানা ভারী বর্ষণে বন্যা, চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ : 10 Jul 2026
টানা ভারী বর্ষণে বন্যা, চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার: টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামীকাল শনিবার, ১১ জুলাই চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে। শুক্রবার, ১০ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। টানা বৃষ্টিতে এই পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতি ভারী বর্ষণের ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের ঘটনা ঘটেছে এবং চট্টগ্রাম, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কক্সবাজারে প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


বৈরী আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ফিরে গেছে তিনটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে ষোলোশহর স্টেশনে আটকে পড়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেন। জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এখনও প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ফলে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।


এর আগে বুধবার, ৮ জুলাইয়ের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল। প্রথমে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি, পরে কক্সবাজার এবং সবশেষে মধ্যরাতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বন্যা পরিস্থিতি ও জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে ৩ সেট করে প্রশ্নপত্র তৈরি রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং পরীক্ষার্থীদের অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে বোর্ডের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;