সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন

প্রকাশ : 27 May 2026
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতি বছরই নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মুসল্লিরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার হিসাব অনুসরণ করে একদিন আগে ঈদ পালন করেন। এবারও ঢাকা, সাতক্ষীরা, বগুড়া, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী ও লালমনিরহাটসহ বেশ কয়েকটি জেলার কয়েকশ গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


রাজধানী ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত সামুরাই কনভেনশন সেন্টারে ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারীসহ কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল রেখে এই জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং এটিকে তারা বৈশ্বিক উম্মাহর সঙ্গে একাত্মতার অংশ হিসেবে দেখেন। 


মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সকাল সাড়ে ৭টায় আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ মুসল্লি এতে অংশ নেন। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল মাওফিক চৌধুরী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানকার একটি অংশ সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করে আসছে। 


পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আজ আগাম ঈদুল আজহা পালন করছেন। সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বদরপুর দরবার শরিফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের মূল জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, ১৯২৮ সাল থেকে এই দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। গলাচিপা, বাউফল, কলাপাড়া ও পটুয়াখালী শহরের নাঈয়াপট্টি, টিয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামগুলো এই ধারায় যুক্ত। 


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন চলছে। গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করছেন। এছাড়া নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকায়ও পৃথক জামাত হয়েছে। 


ভোলার সাতটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের প্রায় ১০ হাজার অনুসারী আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম গ্রামের মজনু মিয়া বাড়ির দরজায় মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া মির্জাখালী, সুরেশ্বর, মাইজভান্ডার ও আটরশি দরবারের অনুসারীরা এতে অংশ নেন। মনিরাম সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা একদিন আগে রোজা বা ঈদ পালন করি বিষয়টি এমন নয়। ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই আমরা ঈদ উদযাপন করি।” 


বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত হয়। এতে নারী ও শিশুসহ নানা বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠসংলগ্ন দুলদুলের ধানের চাতাল ঘরে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর ৫টি গ্রাম এবং লালমনিরহাটের ৩টি গ্রামেও সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। 


উল্লেখ্য, এসব এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই ঈদুল ফিতরও উদযাপন করে থাকেন। তবে এই আগাম ঈদ উদযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে বৈশ্বিক মুসলিম ঐক্যের প্রতীক বললেও, অনেকে সময়ের পার্থক্য ও চাঁদ দেখার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

সম্পর্কিত খবর

;