নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য আইএসডির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্যানেল আলোচনা

প্রকাশ : 05 May 2026
নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য আইএসডির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্যানেল আলোচনা


ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে ও বিদেশে নিজেদের সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এমন ছয়জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিয়ে ‘আইএসডি অ্যালামনাই এন্টারপ্রেনারিয়াল সামিট ২০২৬’ আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)। 

‘ফ্রম আইএসডি টু ইন্ডাস্ট্রি: লেসনস ফ্রম দ্য এন্টারপ্রেনারিয়াল ফ্রন্টলাইন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে ব্যবসা গড়ে তোলার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইএসডির করপোরেট রিলেশনস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফারেস্তা আলী মালিক। 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ছিলেন স্টার্জন ক্যাপিটালের ভেঞ্চার পার্টনার ও রাহিমোটো এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী ওয়াইজ রহিম; আমলিন স্কিন ও ইনডারফুলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নামিত কবির; আমলিন স্কিন ও ল্যাটিটিউড টুয়েন্টিথ্রি ইনকরপোরেটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেহরান কবির; বেয়ার অ্যান্ড ব্লুম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আলিশা লাবিবা রহমান; এমেরাল্ড ইভেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মারিহা কাদের চৌধুরী; এবং আর্ডামান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার নাফিস জলিল।

আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে মানুষের ছোটবেলার আগ্রহ পরবর্তীতে তাদের ক্যারিয়ারের বিকাশে ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে মারিহা কাদের চৌধুরী বলেন, “এই আইএসডি থেকেই আমার যাত্রা শুরু। স্কুলে পড়ার সময় আমি স্টুডেন্ট কাউন্সিল থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম। তখন জানতাম না যে একদিন এটাই আমার পেশা হবে। আমার মতে, পছন্দের কাজ খুঁজে পেলে তাকে ক্যারিয়ারে রূপ দেওয়া সহজ।” 

পেশার ক্ষেত্রে কাজের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন মেহরান কবির। তিনি বলেন, “আমি শুরুতেই বুঝে গিয়েছিলাম যে কাজে আমার আগ্রহ ও উদ্যম নেই, তা আমি করতে পারব না। নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে, সে কাজে সফল হওয়া অসম্ভব।”  

ব্যর্থতা এবং মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কথা বলেন ওয়াইজ রহিম। তিনি বলেন, “পছন্দের কাজের সাথে একজন মানুষের পরিচয় মিশে থাকে। সেই ব্যবসা সফল না হলে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে, সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।”

আলোচনায় ব্যবসা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং, টেকসই পণ্য তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “চিন্তার বিকল্প হিসেবে নয় বরং এআই মানুষের কাজকে সহজ করার একটি মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।”

অনুষ্ঠানটির বিষয়ে আইএসডি’র ডিরেক্টর স্টিভ ক্যাল্যান্ড-স্কোবল বলেন, “আমাদের ৭০০ এর বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিশ্বের ১৫টি দেশে ছড়িয়ে আছেন। তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা আমাদের স্কুলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।”

সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করার উদ্দেশ্যে আইএসডি আগামীতেও এ ধরণের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সম্পর্কিত খবর

;