ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র বিস্তার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

প্রকাশ : 24 Jul 2026
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র বিস্তার, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ ফাঁদের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ফাঁদ বসিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


জেলার সদর, সালথা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল এবং জলাবদ্ধ এলাকায় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নিষিদ্ধ ফাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঁশ, প্লাস্টিকের জাল ও সূক্ষ্ম জাল দিয়ে তৈরি এসব ফাঁদ পানির প্রবাহের মুখে স্থাপন করা হয়। ফলে ছোট মাছ, মাছের পোনা এমনকি ডিমওয়ালা মা মাছও সহজেই আটকা পড়ে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


সালথা উপজেলার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ এ ফাঁদের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। চলতি মৌসুমে মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশীয় মাছের সংকট আরও প্রকট হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


নগরকান্দার বাসিন্দা বক্কার শেখ জানান, আগে বর্ষাকালে স্থানীয় খাল-বিলে সহজেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।


বোয়ালমারী উপজেলার মোড়া গ্রামের রিপন টিকাদারের ভাষ্য, সরকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও নিষিদ্ধ ফাঁদের ব্যবহার বন্ধ না হলে সেই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। আলফাডাঙ্গার বাসিন্দা আলমগীর কবীর বলেন, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। যারা বারবার নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

সম্পর্কিত খবর

;