ফরিদপুরে বহিষ্কৃত ছাত্রনেতার উদ্যোগে বারংবার দৃষ্টান্ত: চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে তরুণেরা

প্রকাশ : 16 Jul 2026
ফরিদপুরে বহিষ্কৃত ছাত্রনেতার উদ্যোগে বারংবার দৃষ্টান্ত: চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে তরুণেরা

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা হয়েছেন একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। এই মানবিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমান যিনি তরুণ স্বেচ্ছাসেবক হিসাবেই জেলাব্যাপী পরিচিত।


বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, বন্যাকবলিত এলাকায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।


স্বেচ্ছাসেবক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যের ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তারা চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য পৃথকভাবে ত্রাণ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী সন্নিবেশ করা হয়েছে।


প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ১ কেজি মুড়ি, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি গুড়, ১ কেজি বিস্কুট, ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ৫০০ গ্রাম চানাচুর, এক প্যাকেট মোমবাতি, চারটি কয়েল, পাঁচ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, একটি গ্যাস লাইট, শিশুদের জন্য দুধ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, নারীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে তোশক, বালিশ ও চাদর। পাশাপাশি ১০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং একটি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীর কার্টনও বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


এই মানবিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন আলী মুকিম, কাজী রিয়াজ, জসিম উদ্দিন, ইয়াসিন হোসাইন, সাইফুল ইসলাম সাইদ, আবু সাইদ অসি, সালমান এক রহমান, শারিব রাবিব, সিফাত হোসাইন, আরিয়ান খান শিহাব, শামীম হোসাইন, মো. জামাল, ডি এম রাজু, তরিকুল ইসলাম মাহফুজ, জাবির রায়হান ও সাকিব আল হাসানসহ আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খায়রুল ইসলাম রোমান সবার কাছে দোয়া কামনা করে লিখেছেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও আমানত যথাযথ মর্যাদায় বন্যাকবলিত মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়ে সুস্থভাবে ফিরে আসতে চাই। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”


চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রার আগে খায়রুল ইসলাম রোমান যুগবার্তাকে বলেন, “ মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজনীতি আমার কাছে কখনো ক্ষমতার বিষয় ছিল না, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম এটি। আমাদের চেষ্টা এবং তার পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমার ও আমাদের ওপর আস্থা রেখে তাদের ভালোবাসা ও আমানত আমাদের নিকট তুলে দিয়েছেন। সেই আমানত যথাযথভাবে বন্যাকবলিত মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে মানুষের পাশে থেকে মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”


এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় খায়রুল ইসলাম রোমানকে (বহিষ্কৃত) ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ সমাজ এবং ছাত্রসমাজের একটি অংশের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসেবায় তার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় তাকে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাদের মতে, এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সমাজ ও সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।


দুর্যোগের এই সময়ে ফরিদপুরের তরুণদের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তি উদ্যোগে সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রম শুধু বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবেই সহায়ক নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধেরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


সম্পর্কিত খবর

;