বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময়

সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে থাকব: আমীরে জামায়াত

প্রকাশ : 17 Jun 2026
সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে থাকব: আমীরে জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার: মঙ্গলবার ১৬ জুন দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।


আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ও জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার করা। এজন্য গণভোট হয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ যেটাতে ভোট দিয়েছে আমরা সংসদে এসে সেটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব, সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে সেখানে থাকব। এটি স্পষ্ট যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি দরকার নেই। সংবিধান সংস্কারের জন্য ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আসবে আমরা আলোচনা করব সংসদে। এজন্য সংস্কারের জন্য কমিটির প্রস্তাব আসলে আমরা বিবেচনা করব।


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেব না। আমাদের সে অধিকার নেই। যেটা সংসদে সমাধান হওয়ার সেটি সংসদে হবে। যেটা রাজপথে হওয়ার সেটি রাজপথে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ আমরা করব না। আমরা আশাবাদী আজ হোক বা কাল এ দাবি আদায় হবে। সবাই বলেছেন জনরায়কে মেনে নেয়া উচিত। জনস্বার্থে আমরা বিএনপির সঙ্গে কথা বলেছি। বিরোধীদলকে গরম কিংবা নরম না ভেবে দেশের স্বার্থে একটি যৌক্তিক বিরোধীদল ভাবার আহ্বান জানান তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দুটি অঙ্গ বিধ্বস্ত। শেয়ার বাজার মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। দেশের শেয়ার বাজার নিয়ে এখন আর কেউ কথা বলে না। ব্যাংকের হাড় গুঁড়া হওয়ার উপক্রম। এটি নিয়ে আমরা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছি।


তিনি বলেন, আমরা সংসদে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে নোটিশ দিয়েছিলাম। সরকারি দল ও বিরোধীদল গঠনমূলক আলোচনা করেছে। আলোচনাগুলোর বাস্তবায়ন যদি না হয়, আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে প্রবাসীদের কোনো কল্যাণ হবে না। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া আমরা পাচ্ছি না। আমরা মনে করি, প্রবাসীদের মূল্যায়ন করলে সবকিছু উজাড় করে তারাও দেশকে মূল্যায়ন করবেন।


আমীরে জামায়াত বলেন, সীমান্তে পুশইন নিয়ে আমরা নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। নোটিশদাতাকে ডেকে নিয়ে সেনসিটিভ ইস্যু উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সেনসিটিভ ইস্যু বলে তা আলোচনা করবেন বলে নোটিশদাতা জানিয়েছেন। আমরা জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেব, ব্যক্তি কিংবা দলকে আমরা প্রাধান্য দেব না। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে আমরা সংসদে এক মিনিটও ব্যয় করতে চাই না। অতীতে অহেতুক আচার-আচরণ করে সংসদে জনগণের টাকা অপচয় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ করেছি, কারও প্রশংসা, স্তুতি করার জন্য আমরা সংসদে আসিনি। এগুলো যেন বন্ধ করা হয়, বাদ দেওয়া হয়। আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য এসেছি। সংসদীয় রাজনীতিতে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সংসদ।


তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন বাজেট অধিবেশন চলছে। গতকাল ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পেশ হয়েছে। ৯১ বিধি অনুযায়ী সম্পূরক বাজেটটি পেশ করতে হয় মার্চে। কিন্তু সেটি জুনের মাঝখানে এসে পেশ করা হচ্ছে বিশেষ অসুবিধার অজুহাতে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা যথেচ্ছ খরচ করার পর ৫৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে। আমরা হয়তোবা ক্রিটিক্যাল অ্যানালিসিস করব, কিন্তু লাভ কী? দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা পাস হয়ে যাবে। এখানে আমাদের পর্যালোচনা অর্থহীন। শেষের দিকে যে অর্থ খরচ করা হয়, তার বড় অংশ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, লুটপাট করা হয়, দায়বদ্ধতা থাকে না, শেষের দিকে যে টাকা ছড়ানো হয় তা দিয়ে কিছু লোকের পেট ভরানো হয়। জনগণের কোনো উপকার হয় না। আমরা এগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেব বাজেট বক্তৃতায়।


ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের দেশে বর্ষাকালে মে ও জুন মাসে যে কাজগুলো করা হয় সেগুলোর কোনো ন্যূনতম মান থাকে না। এজন্য আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব থাকবে ক্যালেন্ডার বর্ষ অনুযায়ী অর্থবছর অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ আমাদের মতো ট্রপিক্যাল কান্ট্রিতেও রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;