১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ

আসিফ মাহমুদের আমলের নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

প্রকাশ : 03 Sep 2026
আসিফ মাহমুদের আমলের নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলির যাবতীয় তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. জাহিদ কালামের সই করা চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকে পাঠাতে বলা হয়েছে।


চিঠিতে বলা হয়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব (যুব-১ শাখা) মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।


দুদক যেসব নথি চেয়েছে


অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ ধরনের তথ্য ও নথি চেয়েছে দুদক।


১. আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র।

২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি।

৩. তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি।

৪. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির (পার্সোনাল ফাইল) সত্যায়িত অনুলিপি।

৫. এসব নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্র।


অভিযোগে কী আছে


এর আগে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায় দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে দুর্নীতির মহোৎসব চালানো হয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা (জনপ্রতি প্রায় ২ লাখ), ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দমতো পদায়নের জন্য আরো প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগের অঙ্ক ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।


এছাড়া যুব উন্নয়নের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই) ও আলী হোসেন (নরসিংদী) গংদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে সব ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঘুষ, অর্থ পাচার, বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি ও ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।


দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তবে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে মানহানির মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দুদককে প্রমাণ উন্মুক্ত করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।


সম্পর্কিত খবর

;