দেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : 13 Jul 2026
দেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন [প্রধানমন্ত্রীর নাম]। তিনি বলেছেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশকে আরও সবুজ করে তুলতেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।


সোমবার ১৩ জুলাই সকালে বরিশালের গৌরনদীতে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিজেদের দেশকে নিজেরাই ঠিক করতে হবে, বাইরের কেউ এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


এর আগে ঢাকা থেকে একদিনের সফরে সোমবার সকালে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সফরের অংশ হিসেবে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে, বরিশাল জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় এবং ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী এলাকায় পৃথক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।


একই দিন বেলা ১১টায় গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্যরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চলতি অর্থবছরে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।


সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেন তিনি। হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনা সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সেনা সদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন। সেনা সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।


দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে ফেরার পথে শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুরোধে বাস থামিয়ে তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নেন এবং খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ. কে. আজাদ বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।


সম্পর্কিত খবর

;