চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৭ শতাংশ

এডিবির আউটলুকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে

প্রকাশ : 10 Jul 2026
এডিবির আউটলুকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে

ডেস্ক রিপোর্ট: এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবির সর্বশেষ আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জুলাই ২০২৬ সংস্করণে এডিবি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে, যা আগের পূর্বাভাস ৪ শতাংশ থেকেও কম। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে সংস্থাটি আশা করছে। দুর্বল রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপকে এই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিরা মাতসুনাগা জানান, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে।


এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উন্নীত থাকবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ দ্বিতীয় ধাপের মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এদিকে রপ্তানি খাত বড় চাপে রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অক্টোবরে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় ধরনের ধর্মঘট এবং বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না।


এডিবি মনে করে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সংকট দূর করতে টেকসই সংস্কার জরুরি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানি বাজার, জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটবে, যা তেল-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র করবে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও এডিবির প্রক্ষেপণ তার চেয়ে অনেক কম। বিশ্বব্যাংকও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করেছে। 


সম্পর্কিত খবর

;