ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশ : 12 Jul 2026
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।


দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনটি যানবাহন মহাসড়ক থেকে সরানোর কাজ চলে। এ কারণে শনিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।


ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, নিহতরা হলেন—ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে জয়নাল হোসেন (৩০), একই গ্রামের আঞ্জু শেখের ছেলে ওবায়দুর শেখ (৪৫), বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (৪২), নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং বরগুনা সদর উপজেলার কোটবাড়িয়া ইউনিয়নের তুলশীবাড়িয়া গ্রামের সেলিম খানের ছেলে জালাল খান (৩৬)।


শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি ডিমবোঝাই ট্রাকের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে সড়কে ডিম ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেগুলো সংগ্রহ করতে এগিয়ে আসেন।


এ সময় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস সড়কে থাকা লোকজনকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তিনটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন।এতে দীর্ঘ সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।


ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানান, বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানোর কাজ চলছিল। সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাদের দাবি, মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।


সম্পর্কিত খবর

;