ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: জাল দলিলের মাধ্যমে কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল, বৃক্ষরোপণ ও আরসিসি পাইপ প্রকল্পে অনিয়ম, ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ইছাপুরা ইউনিয়ন আ’লীগ ও সংশিøষ্ট ওয়ার্ড আ’লীগের ৩৬জন নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার খাদুরাইল গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল ও তার ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার ১৯৯৯সালে জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে মির্জাপুরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২৭একর সরকারি জমি দখল করেন। মির্জাপুর গ্রামের ভূপেষ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি তৎকালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভূমি উদ্ধারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর ভূমিদস্যু এই চক্রটি টাকার প্রভাবে মামলার সকল নথিপত্র গায়েব করিয়েছেন।
ভূপেষ চৌধুরী কর্তৃক মামলা দায়েরের প্রায় ২০বছর পর ২০১৯সালের ১৬এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মূখ্য বিচারিক হাকিম মাসুদ পারভেজ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুলসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
লিখিত অভিযোগে উলেøখ করা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্থানীয় ধীতপুর গ্রামের রাস্তা থেকে বড় বাড়ির সাকুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় এডিবি প্রকল্পের মাধ্যমে সিসিকরণ কাজ দেখিয়ে দুই লাখ টাকা, খাদুরাইল সাকুলের বাড়ি থেকে পূর্বদিকের রাস্তা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ কাজের নামে এক লাখ টাকা, ধীতপুর আইনুদ্দিনের বাড়ি থেকে ডালপা ফজলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণে চার লাখ টাকা এবং এডিপি ও এলজিএসপি প্রকল্প থেকে ইছাপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আরসিসি পাইপ সরবরাহের নামে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫৩৭ টাকা এবং এক লাখ ৩০ হাজার ৪৯৯ টাকা আত্মসাৎ করেন ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল।
এছাড়া কাবিখা-কাবিটা, এলজিএসপি, উন্নয়ন কর এবং এডিপি'র ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। গেল বছর প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলেও অভিযোগে উলেøখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগটিতে বলা হয়, বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিয়াউল হক বকুল আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং কেন্দ্র দখলের করে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছিল জেলা যুবলীগ। বহিষ্কারে ক্ষুব্ধ হয়ে আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, জিয়াউল হক বকুলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগে অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগ অবগত নন। তবে জিয়াউল হক বকুলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের যে মামলা হয়েছিল, তা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর মধ্যস্থতায় সমঝোতা হওয়ার পর অভিযোগকারীরা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। জিয়াউল হক বকুল বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে তার প্রথম সরকারি সফর শেষে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।সফরকা ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।ব ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই দুপুরে তিন দিনের স ...
সব মন্তব্য
No Comments