বকেয়া বেতন দাবি

মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ, তীব্র যানজট

প্রকাশ : 16 Jun 2026
মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ, তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক সোমবার, ১৬ জুন সকাল থেকে অবরোধ করে রেখেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে নাসা গ্রুপ ও অন্যান্য কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। এতে মহাখালী, তেজগাঁও, বিজয় সরণি ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।


প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে শ্রমিকরা মহাখালী-তেজগাঁও সড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেন। অবরোধে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। তাদের হাতে লাল ব্যানার, প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। অনেকেই রাস্তার ওপর বসে পড়েন। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় লোহার ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।


আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, নাসা গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানায় দুই থেকে তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। একজন শ্রমিক বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া দিতে পারছি না, বাজার করতে পারছি না। মালিকপক্ষ শুধু তারিখ দেয়, টাকা দেয় না।’


চ্যানেল ২৪ ও নাগরিক টিভির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে অবরোধ শুরু হয়। ডেইলি স্টার বাংলা জানিয়েছে, গত ৮ জুনও নাসা গ্রুপের প্রায় ৫০০ শ্রমিক একই দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ শুরু হয় এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।


সোমবারের অবরোধের কারণে মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট, সাতরাস্তা ও নাবিস্কো মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অফিসগামী যাত্রীদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িও আটকে পড়ে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবরোধ চলমান ছিল।


বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের বেশি যোগান দেয়। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। মজুরি বকেয়া, ছাঁটাই ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়। শ্রম আইন অনুযায়ী, মাসের কাজ শেষ হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে মজুরি পরিশোধ বাধ্যতামূলক।


এ বিষয়ে নাসা গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে


সম্পর্কিত খবর

;