স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি দেহের মতো। এই দেহের প্রতিটি অংশ যেমন অপরিহার্য, তেমনি দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা, ধর্মীয় ও ভাষাগত গোষ্ঠীও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
আজ রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে সিএইচটি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত ‘বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’-এ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, মাধবী মার্মা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণার মাধ্যমে তার সমাধান দিয়েছিলেন। এই দর্শনের ভিত্তিতে ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা জাতিসত্তা নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে পাহাড়ি ও সমতলের জনগণকে সমান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সরকার ভবিষ্যতেও সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যে সমাজ যত বেশি বৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে, সেই সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান দেশটিকে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা বৈচিত্র্যকে বিভাজনের পথে নিতে চায়, তারা দেশবিরোধী। আর যারা দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়কে সম্মান করতে চায়, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।’
মন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘সমান অবস্থানে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে। কিন্তু পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ মেধাবিরোধী নয়; বরং জাতীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য।’
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থাকার কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জুলাই অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে খেয়াং, বম ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষকে দেশের মূল ধারার উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করতে আমাদের সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের তিনটি আসনেই বিজয়ী করেছেন। এজন্য তিনি পাহাড়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও সামগ্রিক কল্যাণে নিরলস কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্র ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাসদ কেন্দ্রীয় ...
বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, জনগণের জন্য রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর পলাশ ...
স্টাফ রিপোর্টার: চলমান গ্যাসের সংকট আগামী সাত দিনের মধ্যে কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠ ...
সব মন্তব্য
No Comments