পাকিস্তানেও ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ ও ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’

প্রকাশ : 23 May 2026
পাকিস্তানেও ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ ও ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডিজিটাল দুনিয়ায় রাজনৈতিক রসাত্মক-ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণায় নতুন ট্রেন্ড যোগ করেছে দক্ষিণ এশিয়ার জেন-জি প্রজন্ম। ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক একটি কাল্পনিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় তোলার পর, এবার সেই একই আদলে পাকিস্তানেও আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ (সিএপি) এবং ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ (সিএএল)।


ভারতের এই আন্দোলনের শুরু গত ১৬ মে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জন্ম হয়। আদালতে শুনানির সময় তিনি কিছু বেকার তরুণ ও অ্যাক্টিভিস্টকে ‘পরজীবী’ এবং ‘ককরোচ’ বলে উল্লেখ করেন বলে খবর ছড়ায়। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে তার বক্তব্য ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে ছিল, বেকার যুবকদের নয়। কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।


এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক রিলেশন্সে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ও সাবেক আম আদমি পার্টির স্বেচ্ছাসেবক অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের গুগল ফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ খোলেন। দ্রুতই এটি ভাইরাল হয়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা বিজেপি ও কংগ্রেসের অফিসিয়াল পেজকেও ছাপিয়ে যায়। দলটি নিজেকে ‘অলস, বেকার ও ভুলে যাওয়া নাগরিকদের জন্য ভারতের সবচেয়ে সৎ রাজনৈতিক দল’ হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের ব্যঙ্গাত্মক ইশতেহারে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বন্ধ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভায় মনোনয়ন বন্ধ, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, দলবদলকারী এমপি-এমএলএদের ২০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়। 


সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে ‘উইথহেল্ড’ করা হলেও ‘Cockroach is Back’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী নেতা প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, শশী থারুর, মহুয়া মৈত্র, অখিলেশ যাদবসহ অনেকে এই ট্রেন্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শশী থারুর একে ‘তরুণদের হতাশার প্রতিফলন’ বলে উল্লেখ করেন। 


এই ঢেউ এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছেছে। পাকিস্তানে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’, ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’ নামে একাধিক পেজ খোলা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে সিএপির বায়োতে লেখা: ‘Pakistani version of @cockroachjantaparty India’ এবং ‘Different Borders, Same Generation’। আরেকটি পেজে লেখা হয়েছে, ‘Jinhein system ne cockroach samjha, hum unhi awaam ki awaaz hain’। সিএএলের স্লোগান: ‘Har halaat mein zinda hain’। 


পাকিস্তানের এই পেজগুলো সবুজ-সাদা রঙের ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে এবং নিজেদের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পিএমএল-এন ও পিপিপির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে। ভারতের সিজেপির মতো তাদেরও কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নির্বাচনী এজেন্ডা নেই। বরং এটি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা খরচ, রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মিম ও রিলের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, ককরোচকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ এর টিকে থাকার ক্ষমতা। তরুণরা বলছেন, ‘সিস্টেম আমাদের ককরোচ ভেবেছে, আমরাও ককরোচের মতো বেঁচে থাকব’। ভারতে যেখানে সিজেপি প্রায় ২ কোটি ফলোয়ার পেয়েছে, পাকিস্তানে সিএপি এখনো ১৭০০ থেকে ১৬০০ ফলোয়ারের ঘরে। তবে ট্রেন্ডটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। 


এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা, বেকারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 


সম্পর্কিত খবর

;