জাপানের ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, উদ্ধারে চলছে তল্লাশি

প্রকাশ : 29 Jul 2026
জাপানের ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, উদ্ধারে চলছে তল্লাশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ জাপানে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ভোর থেকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ফেটে গেছে। 


ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল কুমামোটো সিটির প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কিউশু দ্বীপের বৃহত্তম শহরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর এসেছে কুমামোটো প্রিফেকচারের কাশিমা টাউনের এওন শপিং মল থেকে। মঙ্গলবার বিকালে মূল ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর মলটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে ২০ বছর বয়সী দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 


জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মলটির ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, পুরো প্রিফেকচার জুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এটি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব মানুষকে বাঁচাতে মাটিতে থাকা সব সম্পদ ব্যবহার করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এওন মলে গ্যাস বিস্ফোরণের সম্ভাবনা তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ভবনের ভেতর গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন, তবে ঘটনার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। 


উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং প্রায় ১৭০ জন সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন, যারা সাহায্যের জন্য ডাক আসা স্থানগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। ভূমিকম্প অঞ্চলে মোট ৪,৫০০ এর বেশি সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া একটি কাগজ কলের চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ শক্তিশালী আফটারশক এবং ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। 

সম্পর্কিত খবর

;