সুমন আদিত্য, জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের মেলান্দহে বিএডিসি সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)–এর একটি মেমোতে বস্তার সংখ্যা, অর্থের হিসাব ও সরবরাহ সময় তিন ক্ষেত্রেই স্পষ্ট অসংগতি ধরা পড়েছে। এতে ভর্তুকিনির্ভর সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সহকারী পরিচালকের দপ্তর থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইস্যুকৃত মেমো নম্বর ১০১০৯৪–এ ডিলারের নাম, লাইসেন্স নম্বর ও ঠিকানা অস্পষ্টভাবে লেখা, যা যাচাই প্রায় অসম্ভব। ওই মেমোতে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি মিলিয়ে ৫৪ বস্তা সার বিতরণের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।
মেমো সমেত সার পরিবহনকারী নছিমন গাড়ির চালকের দাবি, তিনি মেলান্দহ গোডাউন থেকে ৯১ বস্তা সার নিয়ে সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন ডিলারের কাছে সরবরাহ করেছেন। এর মধ্যে ১৬ বস্তা তারাকান্দিতে এবং বাকি ৭৫ বস্তা পিংনার দুই ডিলারের কাছে পৌঁছানোর কথা। সরকারি নথির সঙ্গে এই তথ্যের বড় ফারাক অনিয়মের সন্দেহকে জোরালো করছে।
অর্থ লেনদেনের হিসাবেও মিল নেই। মেমোতে মোট মূল্য প্রায় ৫৪ হাজার ৭০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও খাতভিত্তিক অঙ্কে অসংগতি রয়েছে। মেমোতে ‘ট্যাক্স পরিশোধিত’ উল্লেখ থাকলেও কর পরিশোধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মেলান্দহ বিএডিসি গোডাউনের আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ সার বেচাকেনার কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপজেলার ডিলারদের নামে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ‘হাওলাদি’ নামে পরিচিত এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক প্রথায় এক ডিলারের বরাদ্দ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রভাবশালী একটি চক্র নানা অজুহাতে তাদের প্যাড সংগ্রহ করে সার উত্তোলন করছে। পরে সেই সার অন্যত্র পাচার করে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, গোডাউনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়।
সরবরাহের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০ এপ্রিল উত্তোলিত সার ২৭ এপ্রিল গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে দেখানো হয়েছে। মাত্র ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমে ৬ দিন সময় লাগা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ডিলারদের উত্তোলিত সারের হিসাব সরেজমিনে যাচাই করে লেজার বহিতে স্বাক্ষর করা হয়। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিএডিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সরকারি নথিতে এমন অসংগতি সামনে আসায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সার ব্যবসায়ীরা।
স্টাফ রিপোর্টার: এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে দেশের বাজারে সব ধরনের সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪২০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার, ৬ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষার স্নিগ্ধতা, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে একসূত্রে গাঁথতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজন করেছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষ ...
স্টাফ রিপোর্টার: তেজাবি স্বর্ণ ও রৌপ্যের পিগল গোল্ড ও সিলভারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন-বাজুস। আজ ৩ জুলাই, ২০২৬ শুক্রবার সকা ...
সব মন্তব্য
No Comments