গুম আইনের খসড়ায় মতামতের জন্য ১ দিন সময় প্রহসন: টিআইবি

প্রকাশ : 29 Jul 2026
গুম আইনের খসড়ায় মতামতের জন্য ১ দিন সময় প্রহসন: টিআইবি

ডেস্ক রিপোর্ট: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ এর খসড়ার ওপর মাত্র একদিনের মধ্যে মতামত আহ্বানকে প্রহসনমূলক বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।


মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৭ জুলাই খসড়াটি ওয়েবসাইটে আপলোড করে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি আইনে ভুক্তভোগীদের মতামতের জন্য এত কম সময় দেওয়ায় সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি দৃশ্যমান হয়েছে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়ায় গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাত অগ্রহণযোগ্য ঘোষণার মতো ইতিবাচক ধারা রয়েছে। তবে এর আগে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬' সহ কয়েকটি আইন জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূরক কার্যসূচি হিসেবে তড়িঘড়ি করে পাস করা হয়েছে। এই খসড়ার ক্ষেত্রেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর থাকলেও প্রস্তাবিত খসড়ায় তা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দেশে গুমের বেশিরভাগ ঘটনায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।


খসড়ার ১৫ ধারার উপধারা (১) ও (২) প্রসঙ্গে ড. জামান বলেন, অধস্তন কর্মকর্তার পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। আবার সাক্ষ্যপ্রমাণ না পেলে ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতনকে অব্যাহতি দিতে পারবেন, এমন বিধান অভিযুক্তদের সুরক্ষার আইনি সুযোগ তৈরি করবে।


ভুক্তভোগীসহ অংশীজনদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে মতামতের সময় অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়াটি ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

সম্পর্কিত খবর

;