খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির কর্মসূচি

প্রকাশ : 14 Aug 2026
খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।


দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কার্যালয় এবং মসজিদে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় কার্যালয় এবং মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।


গত বছরও খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল। ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।


২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তখন তিনি জীবিত ছিলেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়েছিল। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


তবে এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।


তাঁর মৃত্যুর পর বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ এবং কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচিও নেওয়া হয়।


মৃত্যুর পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল।


খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক শোকের আবহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি আরও দুই দফা সরকার পরিচালনা করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


১৯৮১ সালে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তাঁকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে।


খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও ১৫ আগস্টকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে। ২০২৫ সালে দলটি তাঁর ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করেছিল।


এবার তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো জন্মবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে। ফলে এবারের কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত জন্মদিন উদ্‌যাপনের পরিবর্তে মরহুমা নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁকে স্মরণের বিষয়টিই প্রাধান্য পাচ্ছে।


বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;