বিশেষ প্রতিনিধি: মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ রয়েছে।
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের এসব কর্মসূচির সুফল ধীরে ধীরে দেশের সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কর্মসূচিটিতে পরিবারের নারী সদস্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনসমাবেশে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে।’ তিনি বলেন, জনগণের এই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদেরকে বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়; বরং জনগণের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটানো এবং রাষ্ট্রীয় সেবার পরিধি বাড়ানো। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আগের সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
তারেক রহমান জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা তুলে ধরা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের সমস্যার টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অন্যদিকে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তারা এর মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, ‘আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।’
দেশের মানুষ এখন শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং একই সঙ্গে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর আগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা জানানো হয়েছিল। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল।
পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদ-নদীতে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বও এ কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
পোনা অবমুক্ত করার পর প্রধানমন্ত্রী জনসমাবেশস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে সরকার কাজ করে যাবে। শান্তি, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিগত সময়ে বিদ্যুৎ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাস্তবতার মুখ ...
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। তবে ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারিনা। ফ্যাসিবাদের সুযোগ দিতে পারিন ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টা ...
সব মন্তব্য
No Comments